শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বরেণ্য কথাসাহিত্যিক-সাংবাদিক রাহাত খানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ নান্দাইলবাসী আনন্দিত ও গর্বিত : কিশোরগঞ্জ ও জামালপুর জেলার দায়িত্ব পেলেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী শিবগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইসির প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কাজ করতে চায় চীন’ নসরতপুর খাদ্য গুদামে বিভিন্ন জেলার চাল মজুত, সরকারি প্রকল্পে সরবরাহের অভিযোগ মোরেলগঞ্জে বাংলা কিউআর ও ক্যাশলেস কার্যক্রম সম্প্রসারণে ক্যাম্পেইন কাঠালিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুসন্ধানের জের:সাংবাদিকদের আটকে রেখে চাঁদা দাবি, নেপথ্যে ছাত্রলীগ নেতা অপু মোরেলগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩শ’ গাছের চারা বিতরণ তারঘাট আনছারীয়া ফাজিল মাদরাসায় সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে কেরাত, হামদ-নাত, কুইজ প্রতিযোগিতা, আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

বরেণ্য কথাসাহিত্যিক-সাংবাদিক রাহাত খানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আইরিন সুলতানা, নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৭৫৫ বার পঠিত
বরেণ্য কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক রাহাত খান----------------------ছবি : সংগৃহীত

বরেণ্য কথাসাহিত্যিক ও প্রথিতযশা সাংবাদিক রাহাত খানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২০ সালের ২৮ আগস্ট ঢাকার নিউ ইস্কাটনের নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা যান ।

রাহাত খানের বর্ণাঢ্য জীবন

১৯৪০ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাহাত খান বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলার, তাড়াইল উপজেলার জাওয়ার গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা জীবন শেষ করে রাহাত খান কিছুদিন জোট পারচেজ ও বিমা কোম্পানিতে চাকরি করে ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে যোগদান করেন। তারপর একে একে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেছেন তিনি।

১৯৬৯ সালে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় তার সাংবাদিকতা জীবনের হাতেখড়ি। পরে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদান করেন। ‘সুহৃদ’ ছদ্মনামে তিনি ইত্তেফাকের জনপ্রিয় কলাম ‘চতুরঙ্গ’ লিখতেন। ‘চতুরঙ্গ’ লিখে তিনি তখন অনেক সুনাম অর্জন করেছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের সহকারী ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালে ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং একসময় সম্পাদকও হন তিনি।

২০১৩ সালে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় দৈনিক বর্তমান। সবশেষ তিনি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

রাহাত খান ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন। বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবনে রাহাত খান কথাশিল্প, ছোটগল্প, প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও উপন্যাসের নিপুণ কারিগর হয়ে উঠেন। ১৯৭২ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ অনিশ্চিত লোকালয় প্রকাশিত হয়। তার পরবর্তী উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে অমল ধবল চাকরি, ছায়াদম্পতি, শহর, হে শূন্যতা, হে অনন্তের পাখি, মধ্য মাঠের খেলোয়াড়, এক প্রিয়দর্শিনী, মন্ত্রিসভার পতন, দুই নারী, কোলাহল ইত্যাদি।

রাহাত খান মাত্র ৩৩ বছর বয়সে ১৯৭৩ সালে পান বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সুহৃদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৫), সুফী মোতাহার হোসেন পুরস্কার (১৯৭৯), আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮০), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮২), ত্রয়ী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮) এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় একুশে পদক (১৯৯৬) লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি সুফি মোতাহার হোসেন পুরস্কার, কাজী জেবুন্নেসা পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন। কথা সাহিত্যিক হিসাবে তার পরিচিতি বা যশ অনেক বেশি।

তিনি গদ্য রচনায় অনবদ্য ছিলেন। তার নিজস্ব ভাষাশৈলী এবং গল্প বলার বৈশিষ্ট্য তাকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে। তার লেখার শুরু গল্প দিয়ে। পরে উপন্যাস। রাহাত খানের উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- অনিশ্চিত লোকালয়, ভালোমন্দের টাকা, অন্তহীন যাত্রা ইত্যাদি। উল্লেখযোগ্য উপন্যাস, অমল ধবল চাকরি, এক প্রিয়দর্শিনী, ছায়া দম্পতি, হে অনন্তের পাখি, সংঘর্ষ, হে শূন্যতা, মধ্য মাঠের খেলোয়াড়, হে মাত বঙ্গ, দুখিনি কমলা; কিশোর উপন্যাস ‘দিলুর গল্প’ ইত্যাদি।

তিনি সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস-এর পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন।

বরেণ্য ও ধীমান কথা সাহিত্যিকদের কখনো মৃত্যু হয় না। উনারা বেঁচে থাকেন সাহিত্যের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এবং লেখক পাঠকের হৃদয়ের গভীরে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..