রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মির্জাগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ব্যানার খুলে নেওয়ার অভিযোগ, উপাধ্যক্ষকে ঘিরে নানা বিতর্ক! আবারও শুরু সামিটের এলএনজি সরবরাহ আমতলীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশ আবু নাছের রায়হানের বদলির আদেশে কাঁঠালিয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, প্রত্যাহারের দাবি সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশি নিহত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী মোরেলগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি রয়েছে বিএনপির শোভাযাত্রা যেসব সড়কে, অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী

মির্জাগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ব্যানার খুলে নেওয়ার অভিযোগ, উপাধ্যক্ষকে ঘিরে নানা বিতর্ক!

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৫৭৫২ বার পঠিত

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী সরকারি কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানের ব্যানার খুলে নেওয়ার ঘটনায় কলেজের উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামানকে ঘিরে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁর অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়েও শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপন উপলক্ষে কলেজ মিলনায়তনে রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের ব্যানারে সভাপতি হিসেবে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সোহরাব হোসেন হাওলাদারের নাম উল্লেখ ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর আগেই ব্যানারটি খুলে নেওয়ার ঘটনায় কলেজজুড়ে অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত ব্যানার ছাড়াই অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান, যিনি স্থানীয়ভাবে আজাদ নামেও পরিচিত, কয়েকজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর আগে কলেজ মিলনায়তনে প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত শিক্ষকদের নিয়ে তিনি বক্তব্য দেন। অভিযোগ রয়েছে, হলরুম থেকে বের হওয়ার সময় ব্যানারটি খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ব্যানারটি কে বা কারা খুলেছেন এবং কার নির্দেশে সরানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—অনুষ্ঠান শুরুর আগে উপাধ্যক্ষ কখন হলরুমে প্রবেশ করেছিলেন? তাঁর সঙ্গে কারা ছিলেন? ব্যানারটি কখন এবং কীভাবে সরানো হলো? অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত শিক্ষক ও কর্মচারীরা বিষয়টি দেখেও কেন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি? এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন:

অভিযোগকারীদের দাবি, পলি, সাবিনা ও সহ কয়েকজন শিক্ষক উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তাঁদের ভূমিকা এবং অনুষ্ঠান শুরুর আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ব্যানার অপসারণে তাঁদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা না থাকলেও তাদের উপস্থিতিতে ব্যানার ছেরা হয়েছে। এ কারণে ঘটনার সময় তাঁদের অবস্থান, উপস্থিতি ও বক্তব্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিতর্ক:

উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামানের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান ও সংশ্লিষ্টতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠতা থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে তিনি শাহজানান মিয়ার ভাতিজা,বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন কলেজে তাঁর প্রভাব বজায় ছিল।

প্রতিবেদকের হাতে আসা কয়েকটি ছবিতে তাঁকে আওয়ামী লীগের তৎকালীন কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে একই অনুষ্ঠান ও বৈঠকে উপস্থিত দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। একটি ছবিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনের পাশে এবং অন্য একটি ছবিতে সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজী আতারউদ্দিনের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। এছাড়া একটি রাজনৈতিক মিছিলে ব্যানার বহনের দৃশ্যেও তাঁকে দেখা গেছে বলে তাঁদের দাবি। এসব ছবি ও ঘটনার প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উপাধ্যক্ষ নিজেকে ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে পরিচয় দিচ্ছেন। অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয়ের দাবির মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়েও স্থানীয় মহলে আলোচনা চলছে। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাঁর নিজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অধ্যক্ষকে অপশারনও কলেজে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ:

সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, উপাধ্যক্ষকে ঘিরে কলেজের অভ্যন্তরীণ বিরোধ দিন দিন বাড়ছে। কলেজের অধ্যক্ষকে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে কলেজ থেকে চলে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং বিভিন্ন বিষয়ে অযাচিত চাপ প্রয়োগের অভিযোগও সামনে এসেছে।

অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে শিক্ষা প্রশাসন কেন বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে না?

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি:

উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামানকে ঘিরে শুধু ব্যানার অপসারণের অভিযোগই নয়, আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে অডিট প্রতিবেদন, জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তসংক্রান্ত নথি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এসব নথিতে আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে কী তথ্য উঠে এসেছে, কার দায় কতটুকু নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। সরকারি তদন্তের নথি পর্যালোচনা করে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কলেজ প্রশাসনের বক্তব্য:

ব্যানার খুলে নেওয়ার বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সোহরাব হোসেন হাওলাদার বলেন, অনুষ্ঠান শুরুর আগমুহূর্তে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি এসে ব্যানারটি খুলে নিয়ে যায়। তারা কারা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকলেও তারা ওই ব্যক্তিদের চিনতে পারেনি বলে জানায়। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান। তবে ব্যানার ছাড়াই অনুষ্ঠান পরিচালনা করার কথা স্বীকার করেছেন।

শিক্ষক প্রতিনিধি গোলাম কিবরিয়াও বলেন, কয়েকজন দুষ্কৃতকারী এসে ব্যানারটি খুলে নিয়ে গেছে। এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

অন্যদিকে উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

এখন প্রশ্ন—জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের একটি কর্মসূচির ব্যানার খুলে নেওয়ার পেছনে কারা জড়িত? অনুষ্ঠান শুরুর আগে উপাধ্যক্ষের হলরুমে প্রবেশ, তাঁর বক্তব্য এবং ব্যানার অপসারণের মধ্যকার ঘটনাক্রম কী? কলেজের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিরোধের নেপথ্যে কী রয়েছে? উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং অধ্যক্ষকে হয়রানী করার অভিযোগের বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুলী।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..