বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মোরেলগঞ্জ পৌর ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত সৌদি আরবে ঈদ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক, বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না: সড়কমন্ত্রী ঈদযাত্রায় কমলাপুর স্টেশনে উপচেপড়া ভিড় ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ মোরেলগঞ্জে দুঃস্থ ও অসহায় নারীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ তালতলীতে জমি দখলে শতাধিক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী, ভিডিও করতে গেলে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি ১৭ বছর পর ঈদ উপহার বিতরণ প্রত্যক্ষ করলেন বিয়ানীবাজারবাসী নান্দাইলে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে শাড়ি ও মানবিক সহায়তার অর্থ বিতরণ

নারায়ণ চন্দ্র পোদ্দারের বর্ণাঢ্য জীবন

দিপংকর মন্ডল, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৫৮৮৬ বার পঠিত

দিপংকর মন্ডল, হরিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি:

জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হরিরামপুরের এক কৃতি সন্তান নারায়ণ চন্দ্র পোদ্দার। মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার বিখ্যাত ধনাঢ্য পরিবার ঝিটকা পোদ্দার বাড়িতে ১৯৫০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন মহেন্দ্র চন্দ্র পোদ্দার। তিনি বিখ্যাত পোদ্দার বাড়ির ৫ম বংশধর। ইছামতীর কোল ঘেঁষে বেড়ে ওঠা নারায়ণ চন্দ্র পোদ্দার ছোটবেলা থেকেই ছিলেন দুরন্ত, উদ্যমী, মেধাবী ও পরোপকারী। কথিত আছে তার দুয়ার থেকে কেউ কখনো খালি হাতে ফেরত যায়নি।

তার জীবদ্দশায় তিনি সমাজ ও এলাকায় মানুষদের জন্য রেখে গেছেন অনবদ্য অবদান। জানা যায় উপজেলার ঝিটকা অঞ্চলে তিনি তার নিজের পৈতৃক সম্পত্তির উপর গড়ে তুলেছেন বাসুদেবপুর মহাশ্মশান ঘাট। তিনি দীর্ঘদিন মহাশ্মশান ঘাটের সভাপতি ও সেক্রেটারি থেকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঝিটকা পোদ্দার বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও তার নিজ জমিতে নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা। এছাড়াও ঝিটকা বাজারের দূর্গা মন্দির স্থাপন ও ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে তার রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। তিনি দীর্ঘদিন দূর্গা মন্দিরের সভাপতি পদে থেকে মন্দিরের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি সর্বদাই এলাকার মানুষদের আর্থিক ও বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে গেছেন। তাকে অপছন্দ করেন এমন মানুষ ছিলোনা বললেই চলে। সর্বোপরি তিনি মানুষের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।

কর্মজীবনে তিনি বি কম পাশ করে ঝিটকা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিযুক্ত হন। একাধারে তিনি ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ১ নং সদস্যর দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে গেছেন দীর্ঘদিন। পরোপকারী ও মহৎপ্রাণ এই মানুষটি ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরন করেন। তিনি চলে গেলেও রেখে গেছেন তার অবদান ও অসংখ্য গুণগ্রাহী। এখন তার অবর্তমানে তার দুই ছেলে বিপ্লব পোদ্দার ও রনি পোদ্দার পিতার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের হরিরামপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ঝিটকা বাজার মন্দির কমিটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নরেশ চন্দ্র দাশ বলেন, প্রয়াত নারায়ণ চন্দ্র পোদ্দার ছিলেন আমাদের সকলের প্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং পছন্দের একজন মানুষ। তিনি তার প্রায় পুরোটা জীবন মানুষের কল্যানে কাজ করে গেছেন। তার কাছে কোন ধর্মীয় ভেদাভেদ ছিলোনা। তিনি সবাইকে সাধ্যমত সাহায্য সহযোগিতা করে গেছেন। তার কাছে এসে কেউ কখনো নিরাস হয়নি। ১৮ ডিসেম্বর তার প্রয়ান দিবসে মহৎপ্রাণ মানুষটির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

নারায়ণ চন্দ্র পোদ্দারের ছেলে বিপ্লব পোদ্দার বলেন, হরিরামপুরে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমার বাবা ছিলেন এক কথায় সবার নয়নমণি। তিনি কখনো কারো ক্ষতি করেন নি৷ তিনি সর্বদাই চেষ্টা করেছেন মানুষকে সহোযোগিতা করার, সমাজের মানুষের কল্যানে কাজ করার৷ তিনি ঝিটকা অঞ্চল তথা হরিরামপুর বাসীর জন্য রেখে গেছেন অনন্য অবদান৷ যার ফল মানুষ তার মৃত্যুর পরেও ভোগ করছেন৷ হরিরামপুরের ইতিহাসের পাতায় নিশ্চয়ই তার নাম বার বার স্বরিত হবেন।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..