বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য : তারেক রহমান তালতলীতে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম, ভাতিজাসহ হাসপাতালে ভর্তি বরগুনায় নারী ও শিশু আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট রনজুয়ারা সিপুকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের দাবি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পাশাপাশি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এর সভাপতি নির্বাচিত হলেন বিশিষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞ ইয়াসের খান চৌধুরী  নান্দাইলে রাজগাতী ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচনোত্তর আলোচনা সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে অভিনন্দন  চাঁদা বন্ধ, বেড়েছে দখলদারিত্ব : মিরপুর সড়কে বেপরোয়া হকারে জনভোগান্তি চরমে ফ্যামিলি কার্ড কিভাবে পাবেন ? আবেদনে যা লাগবে ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে পদক প্রদান ও বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলে দলমত নির্বিশেষে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে: আইজিপি উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততায় জোর: চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে এমপি ড. কেরামত আলীর দিনব্যাপী গণসংযোগ

আদ্ব দ্বীনের ভয়াল রাত: গর্ভবতী মা ও নবজাতকের জন্য সতর্কবার্তা: সাংবাদিক নাহিদ প্রিন্স

লেখক: নাহিদ প্রিন্স, স্টাফ রিপোর্টার (ক্রাইম), এনটিভি:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৮৮১ বার পঠিত
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে  চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভয়াবহ প্রতারনার মুখোমুখি হয়েছেন এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার (ক্রাইম) নাহিদ প্রিন্স যা তিনি তার ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। নিম্নে তা হুবহু তুলে ধরা হলো:-
৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা। হঠাৎ Miftahul Jannat Shaki র পেইন ওঠে। অথচ ওর ডেলিভারির তারিখ ছিলো ১১ তারিখে। সব প্রক্রিয়া নরমাল থাকায় পরিকল্পনা ছিলো> নরমাল ডেলিভারি। আর এজন্যই বেছে নিয়েছিলাম আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল।
শাকির নিয়মিত চেকআপ হতো কুর্মিটোলা মেডিকেলে। শাকির বড় ভাই Abdullah Al Kafi কুর্মিটোলা মেডিকেলের সিনিয়র নার্স। সেও বলেছিলো> আদ্ব দ্বীন নরমাল ডেলিভারির জন্য ভালো। পরিচিতদের পরামর্শে ভরসাও পাচ্ছিলাম। কিন্তু সেই ভরসাই পরিণত হলো জীবনের ভয়াল অভিজ্ঞতায়।
★★
৮ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছালাম। সেখানেই শুরু হয় প্রথম ধাক্কা। ডাক্তারদের ভাষ্যমতে হাসপাতালের বই সংক্রান্ত কিছু প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো বানানো নেই, তাই রোগীকে টাচ করা যাবে না।
সেসময় শাকির প্রচণ্ড পেইনে পানি ভাঙছে। তবু আমাদের বসিয়ে রাখা হলো পুরো ২ ঘণ্টা। পুরো সময়টাই ভেতরে দাড়িয়ে থাকতে হয়েছে তাকে। সঙ্গে ছিলেন শাকির বড় বোন- মনিরা আপু।
আধঘণ্টায় বই বানানোর পর ডাক্তারের কাছে গেলেও রোগীর কাছে আসেননি তারা। দূর্ব্যবহার করে দূরে সরে দাড়িয়ে থাকতে বলা হয়।
ডাক্তার ৫০ মিটার দূর থেকে একবার দেখলেন। শাকি তখন কাতরাচ্ছে, আর ডাক্তার অন্য ডাক্তারের সঙ্গে গল্প চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শেষে নার্সদের হাতে পাঠিয়ে দিলেন।
★★
নার্সরা সেসময় একটা লিস্ট ধরিয়ে দিয়ে বললো সব কিনে আনতে হবে। এরপর বেবির হার্টবিট চেক হলো। ভয়াবহ জেল ঢেলে তা চেক করা হয়। প্রক্রিয়া শেষের পর শাকি জেল মুছতে টিস্যু চাইলে আচরণ করলো ভয়াবহ রকমের খারাপ। মানে- এখানে নবাবী চলে না। বাসা থেকে আনতে পারেন না এমনটাই বললেন।
তারপর শুরু হলো আরেক বিভ্রান্তি>>
ব্যথায় ছটফটের সময়>>
★প্রথমে একজন নার্স বললো পানি ভেঙে বাচ্চা উপরে উঠে গেছে।
★★ দ্বিতীয় আরেক নার্স বললো- সব ঠিক আছে।
★★ তৃতীয় জন এসে বললো পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ বললো পানির মাত্রা ভালো আছে।
যা মোটামুটি দেড় ঘন্টার মধ্যে এমন আজগুবি বয়ান চলে।
★★
নানা তালবাহানা শেষে রাত ৩টার দিকে আমাদের কেবিনে শিফট করা হলো। রক্ত, ইউরিন টেস্ট দেয়া হলো। শাকির তীব্র ব্যথার কথা বললে নার্স বললো আপনার প্রসাবে ইনফেকশন। মানে একজন ডেলিভারি রোগীকে হাস্যকর বয়ান শোনাচ্ছে প্রতিমুহূর্তে।
চেকআপের কারনে রাত ৩টায় রক্ত নিলেও টেস্ট হলো সকাল ৬টায়। রিপোর্ট জমা হলো পরদিন দুপুর ২টায়।। রাত ২টার পর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত কোনো ডাক্তার কেবিনে ঢোকেনি। আর এদিকে রোগীর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছিলো।
★★
ওয়াশরুম ব্যবহার শেষে শাকি পায়ে পানি ঢালছিলো। অবশ্য পানি ঢালার নিয়ম তারা রাখেনি কোনো কারণে। যেহেতু শাকির দরকার ছিলো পা ধোঁয়ার। পানি ঢালার দৃশ্য দেখে ফেলায় এক আয়া উচ্চস্বরে বললো>
পেটে বাচ্চা ফেটে মরে যাওয়া উচিত।
একজন মায়ের জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ের মুহূর্তে এ ধরনের বয়ান শুনতে হলো।
★★
যাকগে > শেষে ডাক্তাররা স্যালাইন দিয়ে ব্যথা তোলার সিদ্ধান্ত নিলো। আমাকে বুঝিয়েও বললেন। কিন্তু শিফট পরিবর্তন হতেই নতুন ডাক্তার এসে আবার নতুন নাটক শুরু করলো।
আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম> পিবি না খুললে সিজার লাগবে। কিন্তু আদ্ব দ্বীনে সিজার করাবো না। কারণ আগে থেকেই শুনেছি> তাদের সিজারের রোগীদের সেলাই মেলে না, ইনফেকশন হয়, বহু নারী ভোগান্তিতে পড়েন। ঠিক তখনই শুনলাম ডাক্তার লাঞ্চে গেছেন। রোগী তখনো ব্যথায় ছটফট করছে।
★★
আর দেরি না করে শাকির বড় ভাই কাফি ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করলাম কুর্মিটোলা মেডিকেলে যাবো।।ছাড়পত্র নিতে সময় লাগলো ৫ মিনিট। হয়তো পরিচয়ের কারণে দ্রুত দিয়েছে। না হলে সাধারণত সময় ক্ষেপণ করে কেবিন বিল বাড়ানো হয়।এমন অভিযোগও আছে।
আদ্ব দ্বীনে ২৩ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। খরচ হয়েছে প্রায় ১৫–১৮ হাজার টাকা। কিন্তু এই এক রাতের আতঙ্ক ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল। অবশেষে কুর্মিটোলা মেডিকেলে গিয়ে আমরা শান্তি পেয়েছি।
পরিশেষে বলবো আদ্ব দ্বীনের মতো প্রতিষ্ঠানের অবহেলা, বিভ্রান্তি আর অমানবিক আচরণ> একজন মায়ের জীবন মুহূর্তে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে।
তাই সাবধান>
 

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..