রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও দুর্ব্যবহারের ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এমপিভুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা এমন আচরণের শিকার হন, যা দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ মানুষসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও।
ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড. কাজী মনির বলেছেন, মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক যদি রাস্তায় লাঞ্ছিত হন, তবে জাতি হিসাবে আমরা নিঃসন্দেহে ব্যর্থ ও লজ্জিত। শিক্ষককে অসম্মান করা মানে গোটা জাতিকে অপমান করা।
তিনি আরও বলেন, “আজকের এই ঘটনাই প্রমাণ করে দেশের গণতন্ত্র, শিক্ষা ও মানবাধিকারের অবস্থা কতটা নাজুক হয়ে পড়েছে। শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করা অপরাধ নয়, বরং এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার।
গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এমপিভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এসময় পুলিশ হঠাৎ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও ধাওয়া দিয়ে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কয়েকজন শিক্ষক আহত হন এবং কিছু সময়ের জন্য কয়েকজনকে আটকও করা হয়, পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।বিএনপি নেতা ড. কাজী মনির আরও বলেন,এই ঘটনায় শুধু শিক্ষক নয়, গোটা জাতি অপমানিত। সরকার যতই দমননীতি চালাক, সত্যের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। শিক্ষকদের দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।তিনি শিক্ষক সমাজের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষকরা জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা— তাদের সম্মান রক্ষা করা মানে দেশের সম্মান রক্ষা করা।”
নাগরিক সমাজের অনেকে মনে করেন, শিক্ষকদের ওপর এমন অমানবিক আচরণ দেশের শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের জন্য বড় হুমকি। তারা এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।