সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বেতাগী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় বৈদ্যুতিক মিটারে শর্টসার্কিট : আতঙ্কে আহত ১৫ শিক্ষার্থী জামালপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সান্তাহার বাফার গুদামে ময়লা-আবর্জনাসহ সার রিব্যাগিং, সরবরাহে ওজনেও কম হোসেনপুরে সাংবাদিক প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি ওলামা দলের কেন্দ্রীয় সদস্য মাওঃ শামীম আহমেদকে বহিষ্কার করে অবগতির নোটিশ জারি মোরেলগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাতরোগে কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন বহু মানুষ, চিকিৎসা খরচে নিঃস্ব পরিবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে বাড়ির আঙিনায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী দিনমজুর থেকে মাদক-ডাকাতির আসামি, দুই ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার বাশার তাড়াইলে আছিয়া খাতুন মাদরাসায় পুরস্কার বিতরণ, দোয়া মাহফিল ও অভিভাবক সম্মেলন

জমি বিরোধের জেরে তরমুজ চাষীর ওপর তিন দফা হামলা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

মনজুর মোরশেদ তুহিন (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৮৫৩ বার পঠিত

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও গলাচিপা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাসির ফকির (৬৫) নামে এক তরমুজ চাষীর ওপর একদিনে তিন দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত নাসির ফকির রাঙ্গাবালী উপজেলার বড় বাইসদিয়া ইউনিয়নের চরনজির গ্রামের বাসিন্দা।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি)। জানা যায়, প্রথম দফা হামলা হয় বেলা ১১টার দিকে নিজ বাড়ি চরনজির এলাকায়। দ্বিতীয় দফা বিকেল সাড়ে ৪টায় গলাচিপা উপজেলার বদনাতলী খেয়াঘাটে এবং তৃতীয় দফা বিকেল ৫টার দিকে গলাচিপার উলানিয়ার বড় বাঁধ এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সকালে নিজ বসতবাড়ির পাশে তরমুজ ক্ষেতে গিয়ে নাসির ফকির দেখতে পান প্রতিবেশী কালাম হাওলাদারের গরু তার ক্ষেতের তরমুজ গাছ নষ্ট করছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে কালাম হাওলাদার ও মিলন প্যাদা তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে ঘর থেকে রড এনে তার মাথায় আঘাত করা হয়।

পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বদনাতলী খেয়াঘাট এলাকায় কালাম হাওলাদারের ছেলে ইসরাফিলসহ ৮-১০ জন তাকে পুনরায় মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। একইদিন বিকেল ৫টার দিকে উলানিয়ার বড় বাঁধ এলাকায় আবারও একই পক্ষের ৮-১০ জনের একটি দল হামলা চালায়।

হামলায় নাসির ফকির মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফোলা ও জখম হয়। শেষ দফা হামলার পর তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম তাকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরবর্তীতে নিরাপত্তা শঙ্কা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত নাসির ফকির বলেন, কালাম হাওলাদার ও মিলন কেন আমাকে মারলো বুঝতে পারছি না। পরে খেয়াঘাটে তার ছেলেও আমাকে মেরেছে। আমি খুব ভয়ে আছি, তারা আমাকে পেলে মেরেই ফেলবে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বলেন, তিনবারের হামলার সময় আমি পাশে ছিলাম। গরুতে তরমুজ ক্ষেত নষ্ট হয়েছে বলায় অকারণে আমার স্বামীর ওপর হামলা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বসতবাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। অতীতেও কয়েকবার হামলার ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে তা মীমাংসা করা হয়। তবে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় নাসির ফকিরকে উচ্ছেদের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে আহত ব্যক্তির পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায় তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..