শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
এবার চাকরি দেয়ার নাম করে জমি আত্মসাতের অভিযোগ মির্জাগঞ্জের “সুবিদখালী মহিলা কলেজে”র অধ্যক্ষ আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে: থানায় লিখিত অভিযোগ। বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলতে মরিয়া বিএডিসির আওয়ামী ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা আজ মহান মে দিবস তাড়াইলে তাদরিসুল কুরআন মাদরাসার নতুন ভবন উদ্বোধন তাড়াইল উপজেলা প্রশাসনের আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উদযাপন মোরেলগঞ্জে মে দিবসে বিএনপি-জামায়াতের পৃথক কর্মসূচি, শ্রমিক অধিকার নিয়ে সরব দুই পক্ষ কিশোরগঞ্জ সদরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: মাদক নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নান্দাইলে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ২০২ হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে মোরেলগঞ্জে দিনমজুর পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ, কোণঠাসা করতে মামলার পর মামলা

জমি বিরোধের জেরে তরমুজ চাষীর ওপর তিন দফা হামলা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

মনজুর মোরশেদ তুহিন (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৮০৪ বার পঠিত

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও গলাচিপা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাসির ফকির (৬৫) নামে এক তরমুজ চাষীর ওপর একদিনে তিন দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত নাসির ফকির রাঙ্গাবালী উপজেলার বড় বাইসদিয়া ইউনিয়নের চরনজির গ্রামের বাসিন্দা।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি)। জানা যায়, প্রথম দফা হামলা হয় বেলা ১১টার দিকে নিজ বাড়ি চরনজির এলাকায়। দ্বিতীয় দফা বিকেল সাড়ে ৪টায় গলাচিপা উপজেলার বদনাতলী খেয়াঘাটে এবং তৃতীয় দফা বিকেল ৫টার দিকে গলাচিপার উলানিয়ার বড় বাঁধ এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সকালে নিজ বসতবাড়ির পাশে তরমুজ ক্ষেতে গিয়ে নাসির ফকির দেখতে পান প্রতিবেশী কালাম হাওলাদারের গরু তার ক্ষেতের তরমুজ গাছ নষ্ট করছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে কালাম হাওলাদার ও মিলন প্যাদা তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে ঘর থেকে রড এনে তার মাথায় আঘাত করা হয়।

পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বদনাতলী খেয়াঘাট এলাকায় কালাম হাওলাদারের ছেলে ইসরাফিলসহ ৮-১০ জন তাকে পুনরায় মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। একইদিন বিকেল ৫টার দিকে উলানিয়ার বড় বাঁধ এলাকায় আবারও একই পক্ষের ৮-১০ জনের একটি দল হামলা চালায়।

হামলায় নাসির ফকির মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফোলা ও জখম হয়। শেষ দফা হামলার পর তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম তাকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরবর্তীতে নিরাপত্তা শঙ্কা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত নাসির ফকির বলেন, কালাম হাওলাদার ও মিলন কেন আমাকে মারলো বুঝতে পারছি না। পরে খেয়াঘাটে তার ছেলেও আমাকে মেরেছে। আমি খুব ভয়ে আছি, তারা আমাকে পেলে মেরেই ফেলবে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বলেন, তিনবারের হামলার সময় আমি পাশে ছিলাম। গরুতে তরমুজ ক্ষেত নষ্ট হয়েছে বলায় অকারণে আমার স্বামীর ওপর হামলা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বসতবাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। অতীতেও কয়েকবার হামলার ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে তা মীমাংসা করা হয়। তবে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় নাসির ফকিরকে উচ্ছেদের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে আহত ব্যক্তির পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায় তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..