সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মোরেলগঞ্জের খাউলিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সালেহ খানের মতবিনিময় পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে মোরেলগঞ্জের খাউলিয়া বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত সান্তাহার স্টেশনের নব-নির্মিত ওভার ব্রীজের উদ্বোধন চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার ভুইয়া ( মেন্তু) বদলে যাচ্ছে ছৈলার চর: এবার গড়ে উঠবে ‘সাংস্কৃতিক ভিলেজ’ ১ অক্টোবর থেকে আসছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম রাড্ডার ঘটনায় ওসি প্রত্যাহার, গ্রেফতার ৯ এক হাজার ৪৯৮ পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে মহাপরিকল্পনা: রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৫৮২৬ বার পঠিত

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-১১, ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক কমিশন বাণিজ্য, ফাইল আটকে রাখা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ভুক্তভোগী ঠিকাদারেরা যেমন আর্থিক সংকটে পড়ছেন, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও গণপূর্ত অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ই/এম বিভাগ-১১-এ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম প্রতিটি প্রকল্পের রানিং ও ফাইনাল বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে মোট বরাদ্দের একটি নির্দিষ্ট অংশ কমিশন হিসেবে দাবি করেন। এটি এখন বিভাগটিতে একটি অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, দাবিকৃত অনৈতিক অর্থ প্রদান না করলে সংশ্লিষ্ট বিলের ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান এই অনৈতিক দাবির প্রতিবাদ করলে বা নতি স্বীকার না করলে, তাদের ফাইলে অযৌক্তিক প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করা হয়। কখনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যার অজুহাতে, আবার কখনো কৃত্রিম কাগজপত্রের ঘাটতি দেখিয়ে বিলের অনুমোদন প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হয়। এর ফলে শতভাগ কাজ সম্পন্ন করার পরও মাসের পর মাস বিলের টাকা পাচ্ছেন না ঠিকাদারেরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সময়মতো বিল না পাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন। অনেকে ব্যাংক ঋণ, চড়া সুদে ধার-দেনা কিংবা ব্যক্তিগত উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনিক হয়রানি এবং বিপুল আর্থিক ক্ষতি এড়াতে অনেকে বাধ্য হয়েই এই প্রকৌশলীর অনৈতিক দাবির কাছে নতি স্বীকার করছেন।

খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই কমিশন বাণিজ্যের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর। বিল আটকে থাকায় ঠিকাদারেরা সময়মতো কাজ শেষ করতে পারছেন না। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, সরকারি দপ্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগোতে পারছে না।

প্রকল্পের এই অযৌক্তিক বিলম্বের কারণে একদিকে যেমন প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত সরকারি সেবা প্রাপ্তিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি পুরো অধিদপ্তরের প্রশাসনিক দক্ষতা ও জবাবদিহিতার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের সঙ্গে এ ধরনের অনিয়ম সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে অনলাইন ফাইল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং বিল অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বয়ংক্রিয় জবাবদিহিতা চালুর দাবি উঠেছে, যাতে কোনো কর্মকর্তা একক ক্ষমতা খাটিয়ে ফাইল আটকে রাখার সুযোগ না পান। সচেতন মহল এই অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং দোষী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..