পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম হেতালিয়া এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি দখল ও কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে জমি ভোগদখলের অভিযোগ উঠেছে আইনজীবী সহকারী মিজানুর রহমান ইদ্রিস আকনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। জমির কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আলতাফ খাঁন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পটুয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
আলতাফ খাঁন জানান, তিনি সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম হেতালিয়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, মিজানুর রহমান ইদ্রিস আকন, খালেক আকন ও সেরাজ আকন—উভয়েই মৃত আফসের আকনের ছেলে—এবং মৃত আবুল কালাই আকনের ছেলে বেল্লাল আকন গং তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁদের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। অন্যদিকে, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় জমির বিরোধ নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁদের বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি মাদারবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতেও মামলা করেছেন তাঁরা। তবে এখনো বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
আলতাফ খাঁনের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির সাবেক সিএস রেকর্ড ও ৫৯ নম্বর পর্চা-খতিয়ান এবং ২১৬, ২২৬, ২২৭ ও ২২৯ নম্বর সাবেক দাগের জমির মালিক ছিলেন মৃত জলে খাঁন ও মৃত বশরাত খাঁন। তাঁদের মৃত্যুর পর সংশ্লিষ্ট জমির বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে নিজেদের দাবি করেন আলতাফ খাঁন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
তিনি জানান, পশ্চিম হেতালিয়া এলাকায় জমি জরিপের সময় সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তারা সরেজমিনে এসে জলে খাঁন ও বশরাত খাঁনের ওয়ারিশদের পরিচয় জানতে চান। ওই সূত্রে তাঁরা সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানার বিষয়ে নিজেদের ওয়ারিশত্বের দাবি সম্পর্কে অবগত হন বলে জানান তিনি।
এরপর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে জমির কাগজপত্র যাচাই এবং বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। জমির মালিকানা কীভাবে তাঁদের কাছে এসেছে, সে-সংক্রান্ত কাগজপত্রও তাঁরা দেখাতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া, জলে খাঁন ও বশরাত খাঁনের ওয়ারিশদের অনুপস্থিতিতে কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে জমি ভোগদখল করা হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আলতাফ খাঁন বলেন, জমির বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, থানা পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রতিকার চেয়েও তাঁরা সমস্যার সমাধান পাননি। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত সব নথিপত্র যাচাই, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আইনগত প্রক্রিয়ায় পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ইদ্রিস আকন ও অন্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে। জমির প্রকৃত মালিকানা এবং জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।