মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মোরেলগঞ্জে দাম্পত্য বিরোধে স্বামীর লিঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর রমজানের নিয়মিত মুসল্লিদের কে পুরস্কার বিতরণ তাড়াইলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর উদ্যোগে দুঃস্থদের মাঝে চাল বিতরণ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ: স্থানীয় গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা নাসিক ৩নং ওয়ার্ডবাসীকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তানভীর রহমানের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা নাসিক ৩নং ওয়ার্ডবাসীকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ইঞ্জিঃ সাদেকের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা লাইলাতুল কদর উপলক্ষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় আরও এক আসামি গ্রেপ্তার দুর্বৃত্তদের হামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রী আহত তাড়াইলে ‘মানবসেবায় আমরা’র উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ

লবিস্ট ফার্মের অর্থ কোথা থেকে এল, বিএনপিকে ব্যাখ্যা দিতে হবে – প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৬০০৯ বার পঠিত

বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন cশেখ হাসিনা।‌‌‌‌

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদের ষোড়শ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং অধিবেশনের সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য এবং মিথ্যা অপবাদ আর অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা লবিস্ট নিয়োগ করেছে। বিদেশি ফার্মকে কোটি কোটি ডলার তারা পেমেন্ট করল, এই অর্থ কীভাবে বিদেশে গেল? এটা কোথা থেকে এল তার জবাব তাদের দিতে হবে; এর ব্যাখ্যা তাদের দিতে হবে।

সরকারের লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, সবসময় পিআর ফার্ম নেওয়া হয়। যাতে বিনিয়োগ বাড়ে, উৎপাদন বাড়ে। আমরা যেন বেশি রপ্তানি করতে পারি। দেশের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য করা হয়। কিন্তু বিএনপির কাজটা কী ছিল?

লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ এবং এর পেছনে ব্যয় সংক্রান্ত বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কত লাখ ডলার বিএনপি খরচ করেছে, এটা আমার প্রশ্ন। এই অর্থ কোথা থেকে তারা পেল? এটা তো বৈদেশিক মুদ্রা। বিএনপি এই বৈদেশিক মুদ্রা কোথা থেকে পেয়েছে। কীভাবে খরচ করেছে; কীভাবে এই লবিস্ট তারা এভাবে রেখেছে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লবিস্ট কিসের জন্য? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানোর জন্য; নির্বাচন বানচাল করার জন্য; নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য; জঙ্গিদের রক্ষা করার জন্য; বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য; বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাধা দেওয়ার জন্য; কোনো ভালো কাজের জন্য নয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের র‌্যাবের কিছু অফিসারের বিরুদ্ধে আমেরিকা স্যাঙ্কশন (নিষেধাজ্ঞা) দিয়েছে। যদি বলি কাদের ওপর? এখন আমাদের বর্তমান আইজিপি, তখন র‌্যাবের ডিজি ছিলেন। হলি আর্টিজানে যখন সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করে; মানুষ হত্যা করে; নৃশংস দৃশ্য। পুলিশের দুজন অফিসার সেখানে ছুটে গেলে তাদের গুলি করে মেরে ফেলে। এরপর আমরা পদক্ষেপ নিই। সেই সময় আমেরিকার যিনি রাষ্ট্রদূত ছিলেন তিনি টুইট করেছিলেন- ‘হলি আর্টিজানের সন্ত্রাসী হামলা বাংলাদেশ একা সমাধান করতে পারবে না।’ রোজার দিন ছিল। সারারাত আমরা কাজ করেছি। সেহেরির সময় পর্যন্ত আমি বৈঠক করি। সবাইকে নিয়ে মিটিং করি। কী করা হবে, কীভাবে অপারেশন চালানো হবে? পরদিন সকাল নয়টার মধ্যে জিম্মিদের উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সফলতার সঙ্গে তাদের আক্রমণ মোকাবিলা করি। এরপরই আমেরিকার অ্যাম্বাসেডর টুইট সরিয়ে ফেলেন। আমরা জনগণকে সম্পৃক্ত করে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ দমন করেছি। যেটা বিএনপির সৃষ্টি। যাদের তারা (যুক্তরাষ্ট্র) স্যাঙ্কশন দিল তাদের অধিকাংশ এই সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রেখেছিল। তাহলে এরা কেন আমেরিকার কাছে এত খারাপ হলো? সব চেয়ে ভালো ভালো অফিসার যারা। আমি আমেরিকাকে দোষ দিই না। ঘরের ইঁদুর বাঁধ কাটলে কাকে দোষ দেবো?

অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, আজকের এই দিনে আমাদের তখনকার সংসদ সদস্য সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া সাহেবকে গ্রেনেড মেরে হত্যা করা হয়েছিল। সেই হত্যার সঙ্গে বিএনপি জড়িত, সেটাও বেরিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, এর বিচারের কাজটিতে বারবার বাধা দিচ্ছে তার পরিবার। যখনই বিচারের কাজটি ‍শুরু হয়, অমনি তার পরিবার একটা বাধা দিয়ে রাখে। কেন ঠিক জানি না।

‘আমার চিন্তা ছিল, দেশটাকে পিছিয়ে যেতে দেবো না’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর আমরা দুই বোন রিফিউজি হিসেবে ৬ বছর বাস করেছি। নাম পরিচয়টাও ব্যবহার করতে পারিনি। কিন্তু আমাদের প্রতীজ্ঞা ছিল, সুযোগ পেলে দেশকে গড়ে তুলব। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে দেশে ফিরি। অনেক বাধা-বিপত্তি, অনেক অপপ্রচার শুনতে হয়েছে। লক্ষ্য স্থির রেখে চলেছি বলে আজ অর্জন করতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনায় আমেরিকার আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। কিন্তু আমাদের এখানে কেউ দারিদ্র্যসীমার নিচে যায়নি। বরং দারিদ্র্যের হার বিএনপির আমলের ৪০ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি। বিশ্বাস করি, আরও কমাতে পারব। যদিও দারিদ্র্য আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিত অর্থনীতির মধ্যেও আমরা বিনা পয়সায় করোনার পরীক্ষা করাচ্ছি। প্রায় ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা লাগে একেকটি পরীক্ষার জন্য। পাশাপাশি বিনা পয়সায় আমরা টিকাও দিচ্ছি। দেশবাসীকে আহ্বান জানাই, যারা ভ্যাকসিন নেননি, ভ্যাকসিন নেবেন; কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা ভ্যাকসিনের জন্য আলাদা বাজেট দিয়েছি। ভ্যাকসিনের অভাব হবে না। যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তারা নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে মারা যাচ্ছে না। সবাই টিকা নেবেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলবেন। যাতে অমিক্রন থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারি।

সরকারের কাছে এখন ২০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামনে বোরো মৌসুম আসছে। আমাদের খাদ্যের কোনো অভাব হবে না। তবে কিছু কিছু জায়গায় দাম বাড়ানোর জন্য নানা কিছু করা হয়। কিছু কিছু সিন্ডিকেট তৈরি হয়। মাঝে মধ্যে চেষ্টা করে। সেটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেই ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..