বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:১০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মির্জাগঞ্জে তথ্য জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকদের অবরুদ্ধের ঘটনায় এবার জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ মেসির গোলে সমতা ফেরালো আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনাকে চমকে দিয়ে এগিয়ে গেল মিসর মোরেলগঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে ডা. কামাল হোসেন মুফতির দাবি— ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নান্দাইলে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত চার্জে থাকা অটোরিকশার বিদ্যুৎ সংযোগ খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট: বরগুনায় স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু, আহত মেয়ে শঙ্কামুক্ত আমতলীতে রাতের আঁধারে জমির ধানের চারা তুলে ফেলার অভিযোগ মির্জাগঞ্জে জাল সনদে চাকরি ও গণমাধ্যমকর্মীদের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারার হুমকি: নেপথ্যে শিক্ষা অফিসারের ‘অর্থের বিনিময়’ দায়সারা তদন্ত নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ

​শিক্ষক কর্তৃক নাবালিকা ছাত্রীকে বিয়ের অভিযোগ: মির্জাগঞ্জে ক্ষোভ, বিপাকে অভিভাবকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৭৯০ বার পঠিত

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দরগা শরীফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সী এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম সোহেল তিনি আইসিটির শিক্ষক বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পর ইতিহাসে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ের এমন ঘটনা এবারই প্রথম, যা নিয়ে স্থানীয় এলাকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​সামাজিক প্রভাব ও অভিভাবকদের উদ্বেগ:

​এই ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়টির সুনাম চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ে নতুন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

​নিরাপত্তা ও নৈতিক অবক্ষয়ের আশঙ্কায় অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের, বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠানো নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, ​”শিক্ষক যদি অভিভাবকের রূপ ছেড়ে ছাত্রীদের ওপর কুদৃষ্টি দেন, তবে আমরা আমাদের সন্তানদের কার কাছে নিরাপদ মনে করব? আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের দ্রুত অপসারণ দাবি করছি।”

​অতিত ইতিহাস ও স্থানীয়দের ক্ষোভ:

​এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক সোহেলের নৈতিক চরিত্র নিয়ে আগেও নানা বিতর্ক ছিল। ছাত্রজীবন থেকেই তার বিরুদ্ধে একাধিক মেয়ের সঙ্গে প্রতারণামূলক সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে পরকীয়া জড়ানোর বিষয়েও এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষকতার মতো একটি পবিত্র পেশায় থেকে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরো শিক্ষক সমাজকে কলঙ্কিত করেছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এক্সিডেন্টলি হয়ে গেছে,  কেন করলেন জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

প্রধান শিক্ষক বলেন বিষয়টি আমি শুনেছি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি বশির গোলদার বলেন বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ওই শিক্ষক এমনটি করে থাকলে বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করেছে। এটা কোনভাবেই মানা যায়না। আমি এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার বলেন, ঘটনাটি যদি সত্যি হয় তাহলে তদন্ত পূর্বক বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

​প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ:
​বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রাতিষ্ঠানিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবক সমাজ।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..