বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মির্জাগঞ্জে তথ্য জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকদের অবরুদ্ধের ঘটনায় এবার জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ মেসির গোলে সমতা ফেরালো আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনাকে চমকে দিয়ে এগিয়ে গেল মিসর মোরেলগঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে ডা. কামাল হোসেন মুফতির দাবি— ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নান্দাইলে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত চার্জে থাকা অটোরিকশার বিদ্যুৎ সংযোগ খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট: বরগুনায় স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু, আহত মেয়ে শঙ্কামুক্ত আমতলীতে রাতের আঁধারে জমির ধানের চারা তুলে ফেলার অভিযোগ মির্জাগঞ্জে জাল সনদে চাকরি ও গণমাধ্যমকর্মীদের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারার হুমকি: নেপথ্যে শিক্ষা অফিসারের ‘অর্থের বিনিময়’ দায়সারা তদন্ত নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ

মোরেলগঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে ডা. কামাল হোসেন মুফতির দাবি— ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’

মোঃনাজমুল মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৭৫৩ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি উত্থাপিত বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি মানববন্ধনে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিরই বাস্তব ভিত্তি নেই বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের এমএসআর (ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী) খাতে বরাদ্দ অর্থ সরকারি বিধি-বিধান ও ক্রয় নীতিমালা অনুসরণ করেই ব্যয় করা হচ্ছে। ৪৩ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সব নথিপত্র যাচাই করতে পারেন।

ব্যক্তিগত ক্লিনিকে রোগী স্থানান্তর, সরকারি হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে অর্থ আদায়, অবৈধ মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদান এবং আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি সবসময় সরকারি নিয়মনীতি মেনেই দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই।

বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া, স্বাক্ষর জালিয়াতি, প্রশাসনিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং চিকিৎসক সংকট তৈরির অভিযোগও তিনি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য, হাসপাতালের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালে কোনো রোগীর চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার চিকিৎসকদের সমন্বিত সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়। চিকিৎসাসেবা নিয়ে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে তিনি দাবি করেন।

ডা. কামাল হোসেন মুফতি আরও বলেন, “আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্ত করুক। আমি যেকোনো তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সত্য উদঘাটিত হলে জনগণ প্রকৃত ঘটনা জানতে পারবেন।”

তিনি অভিযোগ করেন, তার সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি পুনরায় বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। আইন ও সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই দায়িত্ব পালন করছি। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই ‘দুর্নীতি বিরোধী জোট, মোরেলগঞ্জ’ ব্যানারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মানববন্ধন করে ডা. কামাল হোসেন মুফতির অপসারণ ও বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত দাবি করা হয়। এর পরদিন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে অভিযোগগুলোর প্রতিবাদ জানান এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..