শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মোগল সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক স্মারক বিবিচিনি শাহী মসজিদ দৈনিক বাংলা মোড়ে গোলাগুলি, আহত ২ উখিয়ায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত, ঘরে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গাদের রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে সড়ক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নতুন দায়িত্ব পেলেন ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: বিএসটিআই ইউএই-তে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিল: তথ্য চেয়ে দুতাবাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডাকাতি প্রস্তুতিকালে ৩ জন ডাকাত গ্রেফতার, সিএনজি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নূরের চোখে আলো ফেরাতে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদার মানবিক সহায়তা বনগ্রামে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: বিএসটিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৭৫৩ বার পঠিত
-ছবি: সংগৃহীত

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির বিষয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক।

তিনি বলেন, সারা পৃথিবীর কোনো স্ট্যান্ডার্ডে এর মাত্রা নির্ধারণ করা নেই। এ বিষয়ে আমাদের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটির সভা হবে। তারা আইএসওসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মান যাচাই-বাছাইপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওস্থ বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক বলেন, আমরা প্রতিটি গবেষণাকে মূল্যায়ন করি এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। আমরা চাই দেশে বিভিন্ন বিষয়ে উন্নতমানের গবেষণা হোক। মানসম্পন্ন গবেষণা জাতিকে দিকনির্দেশনা দিতে পারে। তবে এটাও খেয়াল রাখতে হবে, জনমনে আতঙ্ক বা অস্থিরতা তৈরি হোক, এমন কিছু যেন না হয়। টুথপেস্ট নিয়ে যে গবেষণা হয়েছে, তার ফলাফল প্রকাশের পূর্বে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসটিআইকে অবহিত করলে নিঃসন্দেহে ভালো হতো বলেও তিনি জানান।

গণশুনানিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসটিআইয়ের পরিচালক (প্রশাসন) মো. সাইফুল ইসলাম।

সম্প্রতি পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) দীর্ঘ ১ বছরের গবেষণার ভিত্তিতে জানায়, বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে প্লাস্টিকের কণা মিলেছে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত।

গণশুনানিতে স্কয়ার গ্রুপের লিগ্যাল অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র লিগ্যাল কাউন্সেল মো. সোহেল হোসেন বলেন, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বিষয়ে দেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। টুথপেস্ট বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক মান সনদের অন্তর্ভুক্ত একটি পণ্য। কোনো বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনো গবেষণার ফলাফল প্রকাশের আগে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা তথা বিএসটিআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষণার ফলাফল সব সময় সঠিক বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে, এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ফলে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সঙ্গে পূর্বেই বিষয়টি আলোচনা বা যাচাই করা হলে বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে। আলোচনার প্রেক্ষিতে নিশ্চিত হওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে উপস্থাপন করতে পারে। তা না হলে জনমনে বিভ্রান্তির পাশাপাশি ব্যাপক ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং উপদেষ্টা মো. শফিকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সম্প্রতি একটি সংস্থা কয়েকটি বেকারি পণ্যে পটাশিয়াম ব্রোমেট পাওয়ার দাবি করে, যা দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিএসটিআইয়ের অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরি এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোতে ওই উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। কিন্তু এ বিষয়ে নেতিবাচক প্রচারের ফলে ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে যে সুনামহানি হওয়ার, তা হয়ে গেছে। মানুষের মনে ওই পণ্য সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এটা ব্যবসার ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি।

তাদের মতে, এ ধরনের অসম্পূর্ণ বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রকাশের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা বা মিডিয়া ট্রায়াল সৃষ্টি হয়। ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং প্রতিষ্ঠানের বাজার ও সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ গবেষণার দায় ব্যবসায়ীদের বহন করতে হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

গণশুনানিতে শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা আরও বলেন, ভোক্তা সুরক্ষার পাশাপাশি শিল্পখাতের স্বার্থ রক্ষায় গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।

এ ধরনের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট আইন বা নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ারও আহবান জানান দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..