শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
রিজভীর সঙ্গে জাফর ইমাম সিকদারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইয়াবা উদ্ধারের পরই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পরদিন রাজপথে এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের একান্ত সচিব হলেন রূপগঞ্জের ইউএনও সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজারে খাদ্যপণ্যের অনিয়মে এসিআই গ্রুপকে লাখ টাকা জরিমানা নান্দাইলে মুশুল্লী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন মো: ওমর ফারুক মোরেলগঞ্জের বলইবুনিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় সাদিক শিকদার নান্দাইলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সুবর্ণা সিকদারের সান্তাহারে অটো রাইস মিলের প্রভাবে ইরামতি খাল সংরক্ষণের অভাবে বিলুপ্তের পথে আমতলীতে বিডি কেয়ার ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

ইয়াবা উদ্ধারের পরই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পরদিন রাজপথে এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫৭৭০ বার পঠিত
গ্রেপ্তার দুইজনের পক্ষে মানববন্ধনের জবাব মাদকবিরোধী অবস্থানে—‘অভিযান বন্ধ নয়, মাদকমুক্ত মির্জাগঞ্জ চাই’

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ানে কপালভেরা গ্রামে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার। এরপর মামলা, আদালতে প্রেরণ ও কারাগারে পাঠানো। আর সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পুলিশের বিরুদ্ধে মানববন্ধন। ঠিক একদিন পর একই স্থানে পাল্টা মানববন্ধনে দাঁড়ালেন স্থানীয়দের একটি অংশ।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থান ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। এক পক্ষের অভিযোগ, গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্যায়ভাবে। অন্য পক্ষের বক্তব্য, মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশের একটি অভিযান।

রাতের অভিযানে ১০ পিস ইয়াবা:

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫০ মিনিটে মির্জাগঞ্জ থানার একটি আভিযানিক দল ২ নম্বর মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের কপালভেড়া এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানটি পরিচালিত হয় একটি মাছের ঘেরের টিনশেড ঘরে। সেখানে থাকা বশির খান (৪২) ও নেছার খান (৩০) নামে দুজনকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। একই সঙ্গে ইয়াবা সেবনের কাজে ব্যবহৃত এমন কয়েকটি সরঞ্জামও জব্দের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
জব্দ তালিকায় রয়েছে দুটি গ্যাসলাইট, একটি সবুজ রঙের প্লাস্টিকের বোতলের মুখ, ২ টাকার একটি নোট, ৫ টাকার একটি নোট এবং ছয়টি ফয়েল পেপারের টুকরা।

গ্রেপ্তার থেকে মামলা, এরপর আদালত:

গ্রেপ্তারের পর দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠান।
আইনগত প্রক্রিয়াটি এখানেই শেষ হয়নি; বরং গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নতুন বিতর্ক।

পুলিশের বিরুদ্ধে স্বজনদের মানববন্ধন:

১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির স্বজন ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে মির্জাগঞ্জে একটি মানববন্ধন করা হয়।
সেখানে তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বশির ও নেছারকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা রাকিব হোসেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা হয়।

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বদলে গেল চিত্র:

ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক—স্বজনদের মানববন্ধনের পরদিনই একই এলাকায় পাল্টা কর্মসূচি।
১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয়দের একটি অংশ মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয়। তাদের বক্তব্য, মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার প্রতিবাদেই তারা মাঠে নেমেছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

‘পুলিশ কর্মকর্তাকে হেয় করার চেষ্টা’:

মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়া এক তরুণ দাবি করেন, রাকিব হোসেনের বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী অভিযানে সক্রিয় ভূমিকার কারণে মাদকসংশ্লিষ্ট একটি মহল পুলিশের ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।
তিনি বলেন, পুলিশের অভিযানের পর মামলা হয়েছে, আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন—অতএব বিষয়টি এখন আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।
তার প্রশ্ন—যদি অভিযোগ থাকে, তাহলে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে; কিন্তু মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো হবে?
এলাকাবাসীর দাবি মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট’:

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের বক্তব্য:

মির্জাগঞ্জকে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।
তাদের দাবি, মাদকের কারণে তরুণদের একটি অংশ বিপথগামী হচ্ছে। মাদক কারবারের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তারা আরও বলেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো অপরাধী যাতে আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে—দুই বিষয়ই নিশ্চিত করা জরুরি।

অভিযোগ বনাম পাল্টা অভিযোগ—সত্য বের হবে তদন্তেই:

একদিকে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির স্বজনদের অভিযোগ, অন্যদিকে এলাকাবাসীর পাল্টা অভিযোগ। এর মধ্যে পুলিশ বলছে, অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফলে এখন মূল বিষয় হলো—অভিযোগের রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপ নয়, বরং তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে।
জব্দ আলামত, মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রকৃত সত্য কী।
মির্জাগঞ্জবাসীর বড় প্রশ্ন—মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই কতটা কঠোর হবে?

একটি ইয়াবা মামলাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন মির্জাগঞ্জে মাদক সমস্যাটিকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে প্রকৃত মাদক কারবারিদের শনাক্ত করা হবে, নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হবে না এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কারণ, একটি মামলার বিচার আদালতে হবে; কিন্তু একটি প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করার লড়াইটা পুরো সমাজের।

দৈনিক সংবাদ বাংলাদেশ অনুসন্ধান বলছে—মির্জাগঞ্জে এখন প্রয়োজন অভিযোগের শোরগোল নয়, প্রয়োজন প্রমাণভিত্তিক তদন্ত এবং মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আইনগত অভিযান।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..