ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং আনন্দ- উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে বরগুনার বেতাগী উপজেলায় উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের পবিত্র মহানবমী। মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর আরাধনা, অঞ্জলি প্রদান এবং হরেক রকমের সুস্বাদু খাবারের আয়োজনে মুখর হয়ে উঠেছে সর্বত্র।
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে মোট ৩৪টি পূজামণ্ডপে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসবের আজ নবমী পেরিয়ে আগামীকাল বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে।
এদিকে পূজা উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নতুন পোশাকে সেজে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন বাড়িতে চলছে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের আপ্যায়ন।
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুজো মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ৩৪টি পূজামণ্ডপে সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৬৮জন নারী সদস্যসহ ২১৪ জন সদস্য। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবক দলও মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। সবমিলিয়ে আনন্দ, উদ্দীপনা আর ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অপূর্ব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্ব পালন করছেন। কোথাও যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমন গুহ বলেন “শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হচ্ছে, নিরাপত্তা নিয়ে কোন ঝুঁকি নেই পাশাপাশি প্রশাসন সববিষয় তৎপর রয়েছে। আশা করি আনন্দ ও উদ্দীপনার সাথে উৎসব উদযাপন শেষ হবে “।