মির্জাগঞ্জ ভূমি অফিসের জাল-জালিয়াতিতে অর্ধকোটি টাকার সম্পত্তি হারাতে বসেছে মির্জাগঞ্জের বাসিন্দা মদন মোহন মিস্ত্রী। সাবেক এসি ল্যান্ড তন্ময় হালদার ও সুবিদখালী ইউপি’র ভূমি সহকারী শাহানাজ পারভীনের যোগসাজসে জমি জালিয়াতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মদন মোহনের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মির্জাগঞ্জ উপজেলায় তন্ময় হালদার ভূমি অফিসের সহকারী কমিশানার (ভূমি) থাকাকালীন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অঢেল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। তার সকল অপকর্মের সহযোগী সুবিদখালী ইউপি’র ভূমি সহকারী শাহানাজ পারভীন।
মির্জাগঞ্জ মৌজায় জেল নং-৩৬, আরএস খতিয়ান ১১০, এসএ ২৭৩ খতিয়ানের ১৩২৩, ১৪১৮, ১৮২৭, ১৮২৯, ১৮৩৩, ১৮৩৫, ১৮৩৬, ১৮৩৯নং দাগে মদন মোহন মিস্ত্রী, রবিন্দ্র চন্দ্র মিস্ত্রী, বাবুল চন্দ্র মিস্ত্রী, অপূর্ব কুমার মিস্ত্রী, অনপম কুমার মিস্ত্রী ৬০ শতাংশ জমির মালিক। উল্লিখিত দাগের জমি ৩০/১০/২০২২ সালে ২২৪৮৭৭৩নং আবেদনের প্রেক্ষিতে (তারিখ ১৮/১০/২০২২) নামজারী মামলা নং ৬৫৫ ২০২২-২৩ অর্থবছর অনলাইন ডিসিআর নং ২২৭৮৭৬০৩৬০০৬৫৫ মূলে খাজনা খারিজ হয়। খাজনা খারিজ সম্পন্ন করেন অভিযুক্ত শাহানাজ পারভীন, সুবিদখালী ইউপি’র ভূমি সহকারী, সার্ভেয়ার আবুল কালাম ও তানিয়া ফেরদৌস, সহকারী কমিনার (ভূমি), অতিরিক্ত দায়িত্ব উপজেলা ভূমি অফিস মির্জাগঞ্জ। খাজনা খারিজ সম্পন্ন করে অভিযোগকারী মদন মোহন মিস্ত্রীগং উল্লিখিত জমি ভোগ-দখল করেন।
আলোচ্য ৬০ শতাংশ জমি জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশে ২০২৪ সালে এসে শাহানাজ পারভীন, সুবিদখালী ইউপি’র ভূমি সহকারী আবার নতুন করে নামজারী করেন। মির্জাগঞ্জ মৌজায় জেল নং-৩৬, আরএস খতিয়ান ১১০, এসএ ২৭৩ খতিয়ানের ১৩২৩, ১৪১৮, ১৮২৭, ১৮২৯, ১৮৩৩, ১৮৩৫, ১৮৩৬, ১৮৩৯নং দাগে মদন মোহন মিস্ত্রী, রবিন্দ্র চন্দ্র মিস্ত্রী, বাবুল চন্দ্র মিস্ত্রী, অপূর্ব কুমার মিস্ত্রী, অনুপম কুমার মিস্ত্রীর ৬০ শতাংশ জমির মালিকদের পরিবর্তে শ্রী জগদীশ চন্দ্র ও মাধব চন্দ্র মিস্ত্রীর নামে ৩০৭২৫৭৮নং আবেদনের প্রেক্ষিতে (তারিখ ১৩/৮/২০২৪) নামজারী মামলা নং ৪৬৮ ২০২৪-২৫ অর্থবছর অনলাইন ডিসিআর নং ২৪৭৮৭৬০৩৬০০৪৬৮, দেওয়ানী মোকদ্দমা ২১৭/১৯৫৬ সনের ২৩/৭/৫৬ তারিখের আদেশ মূলে খাজনা খারিজ হয়।
প্রসঙ্গত ২১৭/১৯৫৬ সনের মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উক্ত মামলার বাদী মৃত আঃ হাতেম দফাদার, বিবাদী স্নেহলতা সাহা। মদন মোহন মিস্ত্রী অ্যাডভোকেট সোনিয়া আক্তার (শাম্মী)’র মাধ্যমে সিটি ১৯৫/ ২৫নং এ আর-২৩ রেজিস্টারের সইমোহর নকল সরবরাহের জন্য আবেদন করেন। আবেদনে দরখাস্তকারী সইমোহর নকলের দরখাস্ত বরিশাল ২য় সাবজজ আদালতের দেওয়ানী মোকদ্দমা-২১৭/১৯৫৬, যার বাদী যোগেস মিস্ত্রি বনাম বিবাদী রাজ কুমার এবং মোকদ্দমার আরজি, রায় ও ডিক্রীর সইমোহর নকলের প্রার্থনা করেন। অত্র মহাফেজ খানায় রক্ষিত বরিশাল ২য় সাবজজ
আদালতের সংশ্লিষ্ট ১ম শ্রেণির ফিরিস্তি বইয়ের ২৩/৭/৫৬ইং তারিখের নিস্পত্তিতে দেওয়ানী মোকদ্দমা-২১৭/১৯৫৬ এন্ট্রি দেখা যায়। যার বাদী আঃ হাতেম দফাদার এবং বিবাদী স্নেহলতা সাহা। মোকদ্দমার নথি নির্দিষ্ট র্যাকের সংশ্লিষ্ট বান্ডিলে পাওয়া যায় নাই। এই মর্মে ইতোপূর্বে ২৫৮৬/৯৮, ৫০০২/৯৮, ৫৩৯৬/৯৮, ২৮৮৪/৯৮, ৮৫৩৫/১৭, ২০৪৬/১৯, ২৩৪৫/২০, ১৪০/২১নং নকলের দরখাস্তের নথিটি পাওয়া যায়নি। এ মর্মে প্রতিবেদনসহ নকলের দরখাস্ত সমূহ নিষ্পত্তির জন্য ভারপ্রাপ্ত জজ, নকলশাখা বরাবরে প্রেরণ করা হয়। যা মহাফেজখানায় রক্ষিত পুরাতন নকলের দরখাস্তের ফটোকপি দৃষ্টে দেখা যায়। দেওয়ানী মোকদ্দমা-২১৭/১৯৫৬ এন্ট্রি দেখা যায়। যাহার বাদী আঃ হাতেম দফাদার এবং বিবাদী স্নেহলতা সাহা।
এদিকে মদন মোহন মিস্ত্রী অ্যাডভোকেট সোনিয়া আক্তার (শাম্মী)’র মাধ্যমে যে মামলার সই মোহর নকলের যে আবেদন করেন সেই মামলাটির রায়কে জালিয়াতির মাধ্যমে শ্রী জগদীশ চন্দ্র রায় একটি ভূয়া রায় সৃজন করে। শ্রী জগদীশ চন্দ্র রায়ের সৃজিত ভূয়া মামলাকে ভিত্তি করে মির্জাগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি তন্ময় হালদার, সুবিদখালী ইউপি’র ভূমি সহকারী শাহানাজ পারভীন ও শ্রী জগদীশ চন্দ্র রায় মদন মোহন মিস্ত্রীর ৬০ শতাংশ জমি হাতিয়ে নিতে সচেষ্ট হয়। ভূমি লোপাটকারী চক্র পূর্বোল্লিখিত ভূয়া মামলার রায়ের উপর ভিত্তি করে নতুন করে নামজারী করে।
ভূয়া নামজারী সম্পর্কে মদন মোহন মিস্ত্রী বলেন, কুচক্রিরা এই অপকর্ম এতোটাই গোপনে সম্পন্ন করেন যে আমি এর বিন্দুবিসর্গ কিছুই জানিনা। নামজারী বাতিল কিংবা মিসকেস হলে বিবাদীকে অবহিত করতে হবে; কিন্তু আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।
অপরাধীত্রয় অআইনকে আইনের ছকে ফেলে ভুক্তভেগী মদন মোহন মিস্ত্রীগংয়ের অর্ধকোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টায় লিপ্ত বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী অভিযোগকারী মদন মোহন।
এই প্রতিবেদক খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, সুবিদখালী ইউপি’র ভূমি সহকারী শাহানাজ পারভীনের কাছে ভূমি সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে তার স্মরনাপন্ন হলেই তাকে উৎকোচ দিতে হয়। উৎকোচ ছাড়া তিনি কোন কাজই করেন না বলে জানিয়েছেন ভূমিসেবা গ্রহীতাদের অনেকে। অন্যদিকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশানার (ভূমি) তন্ময় হালদার ছিলেন ভূমি অফিসের সকল অপকর্মের দণ্ডমুণ্ড। তার গ্রীণ সিগন্যাল ছাড়া একটি ফাইলও নড়তো না। লেন-দেনের বিষয়ে তারা একে অপরের সহযোগী।
এই প্রতিবেদক সুবিদখালী ইউপি’র ভূমি সহকারী শাহানাজ পারভীনের কাছে আলোচ্য অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাগজপত্র দেখে বলতে হবে। পরে যোগাযোগ করলে তিলি বলেন, এতদসংক্রান্ত কোন নথিপত্র পাওয়া যায়নি।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক সহকারী কমিশানার (ভূমি) তন্ময় হালদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি ওখান থেকে চলে এসেছি। আমার দায়িত্বে থাকাকালীন আমি সবকিছু নিয়ম মেনেই করেছি, এখন কোথায় কি হয়েছে বা হচ্ছে তা আমার জানা নেই।