শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
তাড়াইলের গজেন্দ্রপুর দালানবাড়ি মাদরাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন: তদন্ত কমিটি আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব সাইফুল হাসানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ যশোরের বসুন্দিয়া ভূমি কর্মকর্তা পলাশের ‘হাদিয়া’র নামে ওপেন সিক্রেট ঘুষ বাণিজ্য: মাদ্রাসার জমি নামজারিতেও ৪০ হাজার টাকা ঘুষ! ধানমন্ডিতে ১২ বছরের গৃহকর্মী শিশু রিক্তার মৃত্যু: অভিযুক্ত পাউবো প্রকৌশলী সবিবুর রহমান দম্পতির ১৫ দিনে জামিন, নেপথ্যে টাকা নাকি চাপ? এলজিইডি নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানউজ্জামান দুলালের শত কোটি টাকার অনিয়ম ১৫বছরের চাকরি জীবনে ৯০ লাখ টাকা বেতন পেয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান গড়েছেন শতকোটি টাকার সম্পদ দুর্নীতির অভিযোগে দক্ষিণ সিটির আনিস, বোরহান চসিকের শাহীন, ফারজানা মুক্তা ৪ প্রকৌশলীর দেশ ত্যাগ ঠেকাতে নির্দেশ সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসের নায়েব ঘুষের ‘মহারাণী’ শর্মিষ্ঠা সরকারের মাসিক হাত খরচ লাখ টাকা মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে আওয়ামী কমিশনার সফি উল্লাহ সফির বিশ্বস্ত হাতিয়ার উমেদার ‘আওলাদ সিন্ডিকেট’ জিম্মি সাধারণ সেবাগ্রহীতারা কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার কাজিয়া সুলতানা দম্পতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি করে অঢেল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

জনশক্তি ব্যুরোর পরিচালক মাসুদ রানার অঢেল সম্পদ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ৫৭৯০ বার পঠিত

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, বিদেশগামী শ্রমিকদের হয়রানি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

তার বিরুদ্ধে নানা কৌশলে সরকারী টাকা আত্মসাৎ করারও অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী সরকারের সময়ে সহকর্মীদের ল্যাং করে পরিচালক পদ বাগিয়ে কিভাবে শত শত কোটি টাকার মালিক বনেছেন তা নিয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যই গুঞ্জন চলছে এটা কিভাবে সম্ভব? সবাই তাকে বিএমইটিতে অঘোষিত ‘ডিজি’ হিসাবে মনে করেন।

খোজ নিয়ে ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-এর পরিচালক মো. মাসুদ রানা নেত্রকোনা জেলার মহনগঞ্জ উপজেলার চানপুর গ্রামের মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তার জাতীয় পরিচয় পত্র নং ৭৩৪১ ৬৫৫১৯৪ টিআইএন নং-৬৫৫১৫০৪৫৬৮১৯, কর সার্কেল-৮৮, কর অঞ্চল-০৪, ঢাকা। বর্তমান বাসার ঠিকানা: বাসা-৬৫/৩, পশ্চিম আগারগাঁও।

তার স্ত্রী উম্মে ছালমা শেখ। তার পিতার নাম-আফতাব উদ্দিন শেখ। তার জাতীয় পরিচয় পত্র নং ৭৭৮৯ ৮২ ১১ ০০ টিআইএন নং-৪২০৫৭১৭৯১৪১৯, কর সার্কেল-২০৭, কর অঞ্চল-১০, ঢাকা, ঠিকানা একই।

মোহাম্মদ ঝন্টু মিয়ার ছেলে অভিযোগকারী মো. মন্টু মিয়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে মাসুদ রানার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি নিয়োগ বাণিজ্য ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, political পটপরিবর্তনের পরও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে তিনি তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, মো. মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশগামী শ্রমিকদের কাছ থেকে নানা কৌশলে ফাইল আটকিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। যদিও তিনি প্রশাসনের দায়িত্বে রয়েছেন।

অভিযোগকারীর দাবি, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিদেশগামী কর্মীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে হয়রানি করে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। একই সাথে সারাদেশে যত টিটিসি রয়েছে সেগুলোর অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঢাকায় তলব করে তার রুমে ডেকে এনে বৈঠক করেন। এরপর তাদেরকে পুনরায় কর্মস্থলে বহাল আছেন। বিগত সরকারের আমলে ফ্যাসিষ্ট মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের সহযোগিতায় একের পর এক ঘুষ-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম চালিয়েছেন। যা এখনো চলছে। নতুন ডিজি যিনি আসেন তাকেই তিনি তার মতো করে পরিচালনা করেন। আর এসবই তিনি অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করেন থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাসুদ রানার অবৈধভাবে গড়া বিত্ত বৈভবের বিষয়ে অভিযোগকারী লিখিত অভিযোগটি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ মো. মন্টু মিয়া নামের ব্যক্তি।

এসব অজানা তথ্য জানতে ভুক্তভোগীরা পরিচালক মাসুদ রানার অবৈধ টাকা কামাইয়ের রহস্য জানতে প্রশাসনের কাছে দিচ্ছেন একের পর এক অভিযোগ। সর্বশেষ গত ১২ মে জনপ্রশাসন ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। ওই

রিক্রুটিং এজেন্সীর মালিকের সাথে জনশক্তি ব্যবসা রয়েছে। পাশাপাশি দুবাইয়ে ভিলা ও গোল্ড ব্যবসা রয়েছে বলে নানা সুত্র থেকে অভিযোগ রয়েছে। এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান নিকেতন ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া উত্তরা এলাকায় দুটি বাড়ি, সাভারে প্রায় কয়েক বিঘা জমি এবং গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় বিলাসবহুল বাড়ি, জমি থাকার তথ্য রয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। মো. মাসুদ রানা মালয়েশিয়াতে মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম রয়েছে। শুধু তাই নয় দুবাইতে জনৈক করছেন। পরিবারের সদস্যরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন এবং একাধিক দামি গাড়ি ব্যবহার করেন।

তার বিরুদ্ধে সঠিকভাবে তদন্ত শুরু হলে তার অবৈধ অঢেল সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির আরও বিস্তর তথ্য বেরিয়ে আসবে। তিনি সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। এখন ভোল পাল্টানোর চেষ্টা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক মো. মাসুদ রানার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি প্রতিবারই ফোন কেটে দিচ্ছেন। ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি জবাব দেননি।

মন্ত্রণালয়ে দেয়া অভিযোগকারীর দাবি সুষ্ঠ তদন্ত করা হলে মাসুদ রানা যে ৪ থেকে ৫’শ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন তার সব রহস্য বেরিয়ে আসবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..