বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বেতাগীর আলোচিত শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও মারধরের ঘটনার প্রধান আসামিসহ আটক ৩ জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পিবিআই কর্মকর্তা মনজুর রহমান পিপিএম পদকে ভূষিত নান্দাইলে জুয়া, মাদক কারবারী ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে- ইয়াসের খান চৌধুরী নান্দাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি: স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে লিফলেট বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি মোরেলগঞ্জের বহরবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা সরবরাহের বিল উত্তোলন: সান্তাহারে ইছামতির নামে ২০০ টন চাল, সরবরাহ করছেন স্বপন! হরিরামপুরে সোলার নেট মিটারিং ও সার্ভিস প্রোভাইডারদের নিয়ে মতবিনিময় মোরেলগঞ্জে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ১৫ নিউইয়র্কে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের উল্লাস

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৫৮৮১ বার পঠিত

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন  পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ও জুলাই গণহত্যা মামলার আসামী (বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা; মামলা নং-২৫৬/২০২৫(রামপুরা থান আমলী)দণ্ডবিধি,১৮৬০-এর ১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৪৩৫/২০১/৪২৭/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে) এবং  গুলশান সাব-রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন।

জমির প্রকৃত শ্রেণী গোপন করে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি, জাল দলিল নিবন্ধন এবং শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করার সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলশান, বাড্ডা ও সংলগ্ন এলাকার অতি মূল্যবান আবাসিক ও বাণিজ্যিক জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রকৃত শ্রেণী গোপন করা হচ্ছে। কর ও রেজিস্ট্রেশন ফি কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যে বসতভিটা বা বাণিজ্যিক জমিকে দলিলে ‘নাল জমি’ (কৃষি জমি) হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে সম্পাদিত ৩৪৫৯ নম্বর একটি সাব-কবলা দলিলের কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ১০.৬৬ কাঠার এই মূল্যবান জমিটি বাস্তবে বসতভিটা হলেও দলিলে সেটিকে ‘নাল জমি’ হিসেবে দেখানো হয়। ভূমি প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জালিয়াতির কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে প্রতিটি ধাপে অলিখিত অতিরিক্ত অর্থ বা ঘুষ আদায়ের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

এই অফিসে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়। দলিলের সংখ্যা কম হলেও গুলশান এলাকার জমির আর্থিক মূল্য অনেক বেশি হওয়ায় প্রতিটি লেনদেনে বড় অঙ্কের অর্থ জড়িত থাকে। এই সুযোগে একটি অসাধু চক্র অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা লুটে নিচ্ছে।

অভিযোগে নকলনবিশ মো. গিয়াস উদ্দিনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গিয়াস উদ্দিন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিতর্কিত দলিলগুলো দ্রুত সম্পাদন করে থাকেন। অফিসে বহিরাগত দালালদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকায় সাধারণ মানুষ সরাসরি সেবা না পেয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিক বা দাতা পক্ষকে প্রশাসনিক চাপ ও আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে দলিল সম্পাদনে বাধ্য করা হচ্ছে। এছাড়া মালিকানার ইতিহাস যথাযথভাবে যাচাই না করে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধন করারও অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে প্রকৃত মালিকরা দীর্ঘমেয়াদি আইনি বিরোধের মুখে পড়ছেন।

এই সব অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে আবু হানিফ নামের এক ব্যক্তি আইন উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে তথ্য-প্রমাণসহ একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগকারী ও ভূমি খাত বিশ্লেষকদের মতে, গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জনমানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া জরুরি।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..