আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করতে যাচ্ছে সরকার। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়সহ ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারপ্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ-সংক্রান্ত এক সভায় আসন্ন আগস্ট মাস থেকে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করা।
প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন। এই সুবিধাগুলো হলো-
১) বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়।
২) সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় বিশেষ ছাড়।
৩) কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে পরিবহনের সুবিধা।
৪) দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা এবং বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা।
৫) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট (Meet) অ্যান্ড গ্রিট (Greet) সেবা।
৬) দেশে ও বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক (Pick) অ্যান্ড ড্রপ (Drop) সেবা।
৭) প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা।
৮) জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স প্রদান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার।
৯) রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা এবং কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ প্রেরণ ও সহজ লেনদেনের সুবিধা।
১০) জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা, ব্যাংকিং এবং সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সেবায় অগ্রাধিকার।