বরগুনার তালতলী উপজেলার এক বাসিন্দার জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা, প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি আসামিরা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ সি/আর মামলা নং-২২৬/২০২৫ (আম) দায়ের করেন তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মোবারক হোসেন তালুকদার (৭২)। মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদী ও তার সহ-ক্রেতারা ২০০৮ ও ২০১৪ সালে বৈধভাবে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে কড়ইবাড়িয়া মৌজায় প্রায় ১.৯১½ শতাংশ জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ জুলাই আসামিরা একটি কথিত আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে ওই জমির ওপর দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। পরে ওই দলিলের ভিত্তিতে নামজারি (মিউটেশন) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বাদী তালতলী উপজেলা ভূমি অফিসে খোঁজ নিয়ে দলিলটি জাল বলে সন্দেহ করেন।
বাদীর দাবি, ভুয়া তথ্য ও জাল দলিল ব্যবহার করে সরকারি ভূমি রেকর্ডে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়েছে। রিভিউ মামলার নোটিশ পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি জানতে পেরে আদালতের শরণাপন্ন হন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আবেদন জানান।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, তালতলী উপজেলার দক্ষিণ কচুপাত্রা এলাকার আব্দুল মান্নান মুন্সির ছেলে নাসির উদ্দিন মুন্সি, আমতলীর দলিল লেখক লতিফ মোক্তারের ছেলে জিল্লুর রহমান, কচুপাত্রার হুলাটানা এলাকার খবির আকনের ছেলে দলিল লেখক বেল্লাল হোসাইন, আমতলীর দলিল লেখক মহিউদ্দিন নান্নু, বিপ্লব পহলান এবং সন্তোষ কুমার দাস ওরফে বাচ্চু।
মামলার নথি অনুযায়ী, আসামি নাসির উদ্দিন মুন্সি ও দলিল লেখক বেল্লাল হোসাইন বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। অপর আসামিরা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তরা পালাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।