সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

তদন্ত কমিটি গঠন: কাঁঠালিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কাঁঠালিয়া:
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৫৭৫২ বার পঠিত
প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদার-------------------------ছবি: সংগৃহীত

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার পশ্চিম চেঁচরী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্রীদের যৌন হয়রানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টির সত্যতা মিললেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় মামলা বা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

​ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদার বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীর সাথে বিভিন্ন অজুহাতে অসদাচরণ ও যৌন হয়রানি করে আসছেন। এর আগে এক থেকে দুই মাস পূর্বে ‘কুলসুম’ নামের এক ছাত্রীর সাথেও একই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী একই অভিযোগ নিয়ে সামনে আসে।

​এদিকে ঘটনা জানাজানির পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার সহযোগীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নানা অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদার দাবি করেছেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং স্থানীয় সালিশদারদের মাধ্যমে তা মীমাংসা করা হয়েছে। এমনকি জরিমানার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

​ঘটনা সম্পর্কে কাঁঠালিয়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কিং ফয়সাল অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ.কে.এম জামান শুরুতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানালেও, পরবর্তী সময়ে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুর পাল্টে বলেন, “আমি কিছু জানি না, আপনাদের কাছেই প্রথম জানতে পারলাম।” শিক্ষা কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

​জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষক সমাজের মাঝে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এছাড়া কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​স্থানীয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির শাহীন এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ” অপরাধী যেই করুক না কেন, নৈতিকতা বা ধর্ম কখনো অপরাধকে প্রশ্রয় দেয় না। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।”

​সচেতন মহলের অভিযোগ, কাঁঠালিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে বিতর্কিত ব্যক্তিরা বহাল তবিয়তে থাকায় এবং নানা অনিয়মের কারণে পুরো শিক্ষা বিভাগ জর্জরিত হয়ে পড়েছে। ঘটনার এতদিন পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো বিভাগীয় মামলা বা দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবিলম্বে প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..