মানুষ মরনশীল – এ ধ্রুব সত্যকে জাগতিক সময়ে কেউ উপেক্ষা করতে পারে না এটাই চরম সত্য। মানুষ পার্থিব মায়ায় ডুবে ক্ষনস্থায়ী এই ভুবনে মায়ার জালে জড়িয়ে জীবনের সিংহভাগ সময় ব্যয় করে। শুধু তাই নয় পুরো জীবনই ব্যয় হয়ে থাকে। বেমালুম ভুলে যায় সেই অসীম সময়ের কথা, ভুলে যায় চিরস্থায়ী পরজনমের ভাবনা । এটাই মানুষ জাতির ভুলে যাওয়া বিধান।
টগবগে যুবক সোহেল রানা। বয়স পয়ত্রিশ। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে একটা বহুজাতিক কোম্পানিতে সুদীর্ঘ আট বছর যাবত নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। । রয়েছে পাঁচ বছর বয়সী এক সন্তান ও স্ত্রী ।
বড় ভাই মো: মহি উদ্দিন নান্টু যিনি ঐতিহ্যবাহী পুরুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে কর্মরত। মেজো ভাই মো: লেহাজ উদ্দিন টিটু পার্শ্ববর্তী কেন্দুয়া উপজেলা জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক। হঠাৎ গতকাল শুক্রবার বুকে ব্যাথা অনুভব করলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো।
কিন্তু অবস্থার উন্নতি না ঘটায় ভোর চারটা হ্নদ রোগে আক্রান্ত হয়ে চিরদিনের মতো পরপারে পাড়ি জমান। যে সংবাদ দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। যে রানা শিক্ষা জীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবন চলাকালে কারো সাথে মাথা উঁচু করে কথা বলার দু:সাহস দেখায়নি কোন দিন কটু কথা মুখ থেকে উচ্চারিত হয়নি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে কথার আদান প্রদান হত আজ সেই একজন মানবিক গুন সম্পন্ন মানুষের চিরবিদায় সমাজের প্রতিটি মানুষকে শোকে মুহ্যমান করে ফেলে। বাক শক্তি হারিয়ে ফেলে।
যে সোহেল রানা অশীতিপর মা,চাচা এখনো জীবিত আর সেই পয়ত্রিশ বছরের স্বজনের নির্মম প্রস্থান বিবেককে চরম ভাবে নাড়িয়ে তোলে। সোহেল রানা আর কোন দিন এই জাগতিক ধরনীতে ফিরে আসবে না কিন্তু এই যাপিত সময়ের চুল চেরা বিশ্লেষণ সমাজকে ভাবাচ্ছে।
শনিবার নিজ জন্ম ভিটা কুনিয়াপাড়া পলিমাটিতে পিতার সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন। জানায় মুসুল্লিদের পক্ষ থেকে শেষ বিদায়ে স্মৃতি চারন করেন বক্তব্য রাখেন মরহুমের বড় ভাই পুরুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো মহি উদ্দিন নান্টু, সহকারী অধ্যাপক মো মাহবুবুর রহমান বাবুল, বিশিষ্ট সমাজ সেবী সাবেক ইউপি সদস্য মো: আলিম উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য মো আব্দুস সালাম বর্তমান ইউপি সদস্য মো রাফিউল হাফিজ রোকন ও সমাজ সেবী মো: রইছ উদ্দিন প্রমুখ।