ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। আওয়ামী লীগ দুর্গখ্যাত বরগুনা-১ আসন (আমতলী–বরগুনা সদর–তালতলী) এখন নির্বাচনী উত্তাপে টগবগ করছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় এবার এই আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থীর মধ্যে। মাঠপর্যায়ের চিত্র ও ভোটারদের বক্তব্যে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও ধানের শীষের প্রচার-প্রচারণাও চোখে পড়ার মতো।
এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ নারী, তরুণ, সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ব্যাপকভাবে মাঠে কাজ করছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট পেতে দুই প্রার্থীই নানা ধরনের আশ্বাস দিচ্ছেন।
জানা গেছে, বরগুনা-১ আসনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন, বিএনপির মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ, ১০ দলীয় জোটের অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গির হোসাইন এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী জামাল হোসাইন।
তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন। এর মধ্যে আমতলী উপজেলায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৮, তালতলীতে ৮৭ হাজার ২০ এবং বরগুনা সদরে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ জন ভোটার রয়েছেন। আমতলী ও তালতলী উপজেলায় তরুণ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৮ এবং ৩৫ হাজার ৫৪৮ জন। তরুণ ভোটারদের সমর্থন পেতেই দুই প্রধান প্রার্থী সেখানে মরিয়া হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের পর থেকে এ আসনে কখনো বিএনপি বা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জয় পায়নি। আওয়ামী লীগের বিপক্ষে নির্বাচন করে বিএনপি প্রার্থী বারবার জামানত হারিয়েছেন। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রয়াত নেতা মাওলানা আব্দুর রশিদ (অলিউল্লাহর পিতা) চারবার দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে পরাজিত হন। তবে এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে।
সরেজমিনে শনিবার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নারী, তরুণ এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বড় একটি অংশ হাতপাখা প্রতীকের প্রতি ঝুঁকে থাকলেও প্রকাশ্যে তা বলতে তারা অনাগ্রহী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একটি অনানুষ্ঠানিক জরিপে প্রকাশ্যে বিএনপি প্রার্থীকে ২৮ জন এবং ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীকে প্রকাশ্যে ও গোপনে ৩০ জন সমর্থন জানিয়েছেন। যদিও প্রকাশ্য সমর্থনে বিএনপি প্রার্থী সামান্য এগিয়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আওয়ামী লীগ সমর্থক জানান, তারা নানা কারণে বিএনপির মিছিল ও সমাবেশে গেলেও ভোট দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনো নেননি। আবার কেউ কেউ বলেন, হয়রানির আশঙ্কায় তারা প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছেন।
হলদিয়া ইউনিয়নের কয়েকজন ভোটার জানান, আগামীতে বিএনপি সরকার গঠনের সম্ভাবনা বিবেচনায় তারা উন্নয়নের আশায় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার চিন্তা করছেন। অন্যদিকে গুলিশাখালী ও আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের কয়েকজন ভোটার বলেন, কেন্দ্রে গিয়ে তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেবেন, সময়ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
বিএনপি প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শতভাগ বিজয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।
অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ বলেন, মানুষ আর প্রতারণা ও হয়রানি চায় না। হাতপাখার বিজয় ইনশাআল্লাহ নিশ্চিত।
নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত নীরব ভোটাররা কোন দিকে ঝুঁকেন, সেটিই এখন বরগুনা-১ আসনের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে।