রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বিআইডব্লিউটিএর সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বেতাগীতে বিধবা গৃহবধূকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ রেলের টেন্ডারে শত কোটি টাকার কারসাজির অভিযোগের কেন্দ্রে ‘আফসার’ সিন্ডিকেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র সেকেন্ড ডিজি খ্যাত বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের গডফাদার মাসুম বিল্লাহ কি আইনের উর্ধ্বে আদমদীঘিতে শুমারি স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগে ফলাফলে প্রশংসা, নির্বাচিতদের আ.লীগ ট্যাগে প্রচারণা মেধার স্বীকৃতি হিসেবে ৪২ মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘রাজকীয়’ সম্মাননা দিলো মোরেলগঞ্জ মডেল একাডেমি তাড়াইলের গজেন্দ্রপুর দালানবাড়ি মাদরাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন: তদন্ত কমিটি আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব সাইফুল হাসানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ যশোরের বসুন্দিয়া ভূমি কর্মকর্তা পলাশের ‘হাদিয়া’র নামে ওপেন সিক্রেট ঘুষ বাণিজ্য: মাদ্রাসার জমি নামজারিতেও ৪০ হাজার টাকা ঘুষ! ধানমন্ডিতে ১২ বছরের গৃহকর্মী শিশু রিক্তার মৃত্যু: অভিযুক্ত পাউবো প্রকৌশলী সবিবুর রহমান দম্পতির ১৫ দিনে জামিন, নেপথ্যে টাকা নাকি চাপ?

ধানমন্ডিতে ১২ বছরের গৃহকর্মী শিশু রিক্তার মৃত্যু: অভিযুক্ত পাউবো প্রকৌশলী সবিবুর রহমান দম্পতির ১৫ দিনে জামিন, নেপথ্যে টাকা নাকি চাপ?

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৭৫৫ বার পঠিত

১০ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া ১২ বছরের রিক্তা মনির লাশ শেষ পর্যন্ত কয় টাকায় বিক্রি হলো? সুনামগঞ্জের সালনা থানার নিজগাঁও গ্রামের রিক্তা, পুরো নাম রিক্তা মনি। চার বোন আর এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। পিতা দিনমজুর শাহিন মিয়া, মাতা মাজেদা বেগম। পারিবারিক অসচ্ছলতা মেটাতে বাবা রিক্তাকে মাসিক ৪ হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে পাঠান ঢাকার ধানমন্ডিতে। গৃহকর্তা সবিবুর রহমান পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী, গৃহকর্ত্রী নুসরাত বর্ণি। রিক্তা যখন গৃহকর্মীর কাজে যোগ দেয়, তখন তার বয়স ১২ বছর।

তবে এই নিয়োগে ছিল একাধিক দালাল বা ফরিয়া। রিক্তার বাবার পরিচিত গাজিবুর, তার পরিচিত আইয়ুব আলী… এই দুজনের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের রিক্তা মনি ঢাকার অভিজাত এলাকা ধানমন্ডিতে কাজ পায়। এর বিনিময়ে আইয়ুব আলী আর গাজিবুর পায় ১০ হাজার টাকা।

কয়দিন পরেই ইমোতে কল করলে রিক্তা কান্না কাটি করে শারীরিক নির্যাতনের কথা জানায় মাকে। তখন তার চোখ মুখ ফোলা ছিল। গৃহকর্ত্রী বর্ণি ফোন কেড়ে নেয়। মাজেদা বিষয়টি স্বামীকে জানান। পিতা শাহীন গৃহকর্ত্রী বর্ণিকে ফোন করে কন্যা রিক্তাকে ফেরত চাইলে বর্ণি বলে রিক্তাকে ফেরত চাইলে দালালদেরকে দেওয়া ১০ হাজার টাকাও তাকে ফেরত দিতে হবে। বিকাশে টাকা পাঠাতে বলে বর্ণি।

এক পর্যায়ে এতেও রাজী হয় শাহিন। গত ১৮ জুন মা মাজেদা ফোন করলে বর্ণি বলে পরদিন সকালে ফোন দিলে রিক্তার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবে। পরদিন ১৯ জুন সকাল ৭টায় দালাল গাজিবুর শাহিন মিয়াকে ফোন করে জানায় রিক্তা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উত্তরায বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। মাজেদা আর গাজিবুর সেখানে গিয়ে বর্ণিকে ফোন করলে বর্ণি তাদেরকে অপেক্ষা করতে বলে ফোন বন্ধ করে দেয়। তারপর ফোন বন্ধ করে দেয়।

দুই ঘণ্টা পর আরেক দালাল আইয়ুব আলী ফোনে গাজিবুরকে জানায় যে রিক্তা ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে। মাজেদা আর গাজিবুর সেখানে গিয়ে দেখে রিক্তা মনির লাশ অ্যাম্বুলেন্সে রাখা। রিক্তার বাম হাত ভেঙে মাংসপেশি ছিঁড়ে হাড় বেরিয়ে গেছে। তখন পিতা শাহিন মিয়া ধানমন্ডিতে গিয়ে জানতে পারেন ভোর ৬টায় ধানমন্ডির ৯/এ সড়কের ১১ তলা বাসার বারান্দা থেকে নিচে পড়ে গেছে। অভিযোগ ওঠে রিক্তাকে নির্যাতন ও হত্যা করে লাশ রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় পাউবোর প্রকৌশলী সবিবুর আর বর্ণির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন দিনমজুর শাহিন। দুই আসামীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর মাত্র দুই সপ্তাহ পর জুলাইয়ের ৭ তারিখে তারা জামিনে মুক্তি পান। বাদীপক্ষ আদালতে হাজির হয়ে বলেন যে ভুল বুঝে হত্যা মামলা করা হয়েছে, আসলে তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আসামিদের ভুল বুঝে মামলায় যুক্ত করা হয়েছে, তাদের জামিনে আপত্তি নাই শাহিন এবং মাজেদার। ‘আপোস হয়েছে কি না’- সাংবাদিকদের এরকম প্রশ্নের জবাবে বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন ‘হতেও পারে। আমি জানি না। এ ধরনের মামলা টাকা ছাড়া কি আপস হয়?’ দুই দালাল গাজিবুর আর আইয়ুব আলীর কী হয়েছে তা জানতে পারলাম না। জীবন্ত রিক্তা তো বিক্রি হয়েছিল ১০ হাজারে, মৃত রিক্তা বিক্রি হলো কতোতে? সেটাও জানা গেল না।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..