বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
দুর্যোগকবলিত নেপালকে ১০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা প্রদান করল বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ, শেখ হাসিনা-রেহানার নামে মামলা সবার গর্বিত পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু সান্তাহারে তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবসে দোয়া মাহফিল মোরেলগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের ঢল দশম ওয়েজ বোর্ড ও মহার্ঘ ভাতা বাস্তবায়নের দাবি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হেঁটে হেঁটে সচিবালয় থেকে ওসমানীতে প্রধানমন্ত্রী হরিরামপুরে ছাত্রদল নেতার অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য আমতলী পৌরসভার লেক প্রকল্পে অনিয়মের প্রমাণ, নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ

ব্যাংকের ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ, শেখ হাসিনা-রেহানার নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫৭৫০ বার পঠিত
ছবি : সংগৃহীত

শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় মামলা করেছে দুদক। দেশের ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট-এর নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ ও আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামি হলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি এবং এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) সংস্থার সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা করেন। পরে দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুকূলে সংগ্রহ করেন। তাতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মামলা অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৮৮২-এর আওতায় গঠিত ওই ট্রাস্টে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং শেখ রেহানা সহসভাপতি ছিলেন।

দুদক বলছে, তাদের অনুসন্ধানে বাংলাদেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তাতে জানা যায়, তৎকালীন বিএবি সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার নির্বাহী কমিটির সভায় ট্রাস্টকে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ দেয়ার প্রস্তাব তোলেন। যদিও নির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি ছিল না। পরে নির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোন ব্যাংক কত টাকা দেবে, তা উল্লেখ করে ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। এরপর ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে জানায় দুদক।

মামলায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর বিষয়ক নীতিমালায় এ ধরনের ট্রাস্টকে অনুদান দেয়ার কোনো বিধান নেই।

এজাহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৮ সালের ০১ জুনের ডিওএস সার্কুলার এবং ২০২২ সালে প্রকাশিত পলিসি গাইডলাইন অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস-এর নিয়মের কথা বলা হয়েছে।

দুদক বলছে, সরেজমিন পরিদর্শনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ঠিকানায় দাফতরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদফতর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

দুদকের ভাষ্য, ট্রাস্টের প্রতিশ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রমাণও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি।

শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিএবির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ, বিএবির সভাপতি থাকার সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব ব্যবহার করে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন।

সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে এভাবে অনুদান দেয়ার বিধান না থাকার পরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকগুলোকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।

এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..