শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বরগুনা হাসপাতালে নার্সকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন দেশ ও জাতির স্বার্থে আর্দশ নাগরিক গঠনের বিকল্প নেই – প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার ভুয়া এনআইডি আর জাল দলিল: ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাটের নতুন ফাঁদ! বেতাগীতে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার আদমদীঘিতে অবৈধভাবে সার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি, ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড-জরিমানা কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দুর্যোগকবলিত নেপালকে ১০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা প্রদান করল বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ, শেখ হাসিনা-রেহানার নামে মামলা সবার গর্বিত পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

ভুয়া এনআইডি আর জাল দলিল: ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাটের নতুন ফাঁদ!

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫৭৫৭ বার পঠিত

জাল এনআইডি (NID), ভুয়া খতিয়ান ও বাড্ডা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অসাধু চক্রকে ব্যবহার করে একাধিক ব্যাংক থেকে শত কোটি টাকার ঋণ হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি মুন্সীগঞ্জ ও চাঁদপুরের দুটি ভিন্ন স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশন থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে দুটি সক্রিয় এনআইডি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে নথিপত্রে প্রমাণ মিলেছে। এই নজিরবিহীন জালিয়াতি ও ব্যাংক ঋণ আত্মসাতের ঘটনা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন জমা পড়েছে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমিল্লা সদর উপজেলার ছোটরা গ্রামের বাসিন্দা মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেন (পাসপোর্ট নং- ই০০৪৫৭৯৫৫) দীর্ঘ দিন ধরে এই প্রতারণাজাল বিস্তার করে আসছেন। তিনি নিজের স্থায়ী ঠিকানা প্রতারণামূলকভাবে একবার মুন্সীগঞ্জ এবং অন্যবার চাঁদপুর দেখিয়ে দুটি পৃথক এনআইডি (নং- ৩৭২৫২৫১৪১৯ ও ১৫১৪৮৭৫৭৬৩) তৈরি করেন, যা ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০’-এর ১৪ ও ১৫ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

​পরবর্তীতে বাড্ডা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তিনি জন্মতারিখ হাতে লিখে এবং ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করে দুটি জাল দলিল (দলিল নং- ১৪৬৪, তারিখ: ০৮/০২/২০১১ এবং দলিল নং- ১৮২৩, তারিখ: ১৫/০২/২০১১) সম্পাদন করেন।

​চক্রটি এখানেই ক্ষান্ত হয়নি, আনোয়ার হোসেন তাঁর নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান ‘আরেফিন ট্রেডিং’ ও ‘এম সি মেশিনারীজ কর্পোরেশন’-এর নামে তৈরি এসব জাল দলিল ও ভুয়া জামানত বন্ধক রেখে এনআরবিসি ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক এবং অগ্রণী ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকার ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। শুধু তা-ই নয়, অন্যের সম্পত্তি প্রতারণামূলকভাবে ও অবৈধভাবে বন্ধক দেখিয়ে তিনি উত্তরা ব্যাংক পিএলসি এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি থেকেও সমপরিমাণ অর্থ তুলে নেন।

​অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক জালিয়াতি ঢাকতে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ও তাঁর ক্যাডার বাহিনী অভিযোগকারী মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর পরিবারকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এ বিষয়ে দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধের বিবরণ তুলে ধরে দুদকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের প্রাথমিক নথিপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দেশের ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নকারী এই জালিয়াতির সঙ্গে বাড্ডা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস কিংবা ব্যাংকগুলোর কোনো কর্মকর্তা জড়িত আছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​ইতোমধ্যেই উক্ত জালিয়াতির নিরপেক্ষ তদন্ত, এনআইডি বাতিল এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (সিইও) কাছে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অভিযোগ সর্ম্পকে জানতে চাইলে, আনোয়ার হোসেন বলেন এ বিষয়ে আমি এখন কিছু বলতে চাই না। আপনি এ বিষয়ে জানার অথরিটিও না বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..