শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মোরেলগঞ্জে মিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর নির্দেশে নান্দাইলে হতদরিদ্র ও এতিম ছাত্রদের মাঝে ৩৪ কার্টুন খেজুর বিতরণ আমতলীতে গুণীজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্মানে ইফতার মাহফিল আমতলীতে খাস জমি নিয়ে দ্বন্ধ। সংঘর্ষে আহত-৭ তাড়াইল বাজারের পুরাতন ডাকবাংলা রোড এখন ময়লার ভাগাড় আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতির নামে অপপ্রচার: সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩১৭০ পিস ভারতীয় ট্যাবলেট ও ৪২৭ বোতল সিরাপসহ আটক ১ ঢাকা কলেজস্থ নান্দাইল ছাত্র ঐক্য পরিষদ (গ্যালাক্সি)-এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত আমতলীতে তাল গাছ নিয়ে দ্বন্ধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা নদী আর সাগরে বন্দি রাঙ্গাবালী: যেখানে স্বাস্থ্যসেবা আজও এক বিলাসিতা

আমতলীতে অনুদানপ্রাপ্ত মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী শূন্য, ধার করা শিক্ষার্থী দিয়ে চলছে পরীক্ষা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৭৯০ বার পঠিত

বরগুনার আমতলী উপজেলার অনুদানপ্রাপ্ত পাঁচটিসহ ৭৬টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় নেই কোনো প্রকৃত শিক্ষার্থী। কাগজে-কলমে হাজারো শিক্ষার্থী দেখিয়ে অনুদান গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে এসব মাদ্রাসা ফাঁকা পড়ে আছে। পরীক্ষার সময় ধার করা শিক্ষার্থী এনে দেখানো পরীক্ষা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

জানা গেছে, আমতলী উপজেলায় অনুদানভুক্ত পাঁচটিসহ মোট ৭৬টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। অনুদান পাওয়া পাঁচটি মাদ্রাসা হলো, পূর্ব চিলা হাসানিয়া, মধ্য পাতাকাটা আমানদিয়া, উত্তর ঘোপখালী, মোহাম্মদপুর মাহমুদিয়া নাচনাপাড়া এবং কুতুবপুর ইসরাইলিয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা। তবে গত দুই-তিন বছর ধরে এসব মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। শিক্ষকরা কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর তালিকা দেখিয়ে অনুদান পাচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে ক্লাসরুম ফাঁকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার দরজায় প্রায়ই তালা ঝুলতে দেখা যায়। শিক্ষকরা কখনো কখনো এসে উপস্থিতি খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। গত ২০ নভেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হলেও বেশিরভাগ মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থী অংশ নেয়নি। কেবল কয়েকটি মাদ্রাসায় দুই-একজন শিক্ষার্থীকে বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাগজে-কলমে এসব মাদ্রাসায় মোট ৯ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তদন্তে দেখা গেছে, বেশিরভাগ মাদ্রাসায় একজন শিক্ষার্থীও নেই।

কুতুবপুর ইসরাইলিয়া মাদ্রাসায় দেখা যায়, মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী, আয়শা আক্তার জুই চতুর্থ শ্রেণি ও সিয়াম তৃতীয় শ্রেণি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তবে তারা আসলে কুকুয়া গোজখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের ধার করে এনে মাদ্রাসার বেঞ্চে বসিয়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে মধ্য পাতাকাটা আমানদিয়া মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। ওই মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা বশির আহম্মেদ বলেন, আমার মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থী নেই,তাই কেউ পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

মোহাম্মদপুর মাহমুদিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, অনেক দিন ধরে সেখানে কোনো পাঠদান হয় না।

কুতুবপুর ইসরাইলিয়া মাদ্রাসার প্রধান গোলাম কিবরিয়া বলেন, বেতনভাতা না পাওয়ায় কোনো মতে মাদ্রাসা চালিয়ে রাখছি। তবে কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে—এ বিষয়ে তিনি কোনো জবাব দিতে পারেননি।

আমতলী উপজেলা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাওলানা আলাউদ্দিন বলেন, অনুদানভুক্ত পাঁচটি মাদ্রাসায় ছয় মাস ধরে বেতনভাতা বন্ধ। সরকার কীভাবে দেশ চালাচ্ছে, বুঝে উঠতে পারছি না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার জানান, মাদ্রাসাগুলো নিজেরাই প্রশ্নপত্র তৈরি করেছে। সরকার শুধু পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করেছে। সেখানে পরীক্ষার্থী আছে কিনা, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।

আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াদুল হাসান বলেন, উপজেলায় পাঁচটি অনুদানপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থী আছে কিনা, আমি নিশ্চিত নই। তবে পাঁচটি ছাড়া বাকি মাদ্রাসাগুলো কাগজে-কলমে আছে, বাস্তবে নেই।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..