জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অবশেষে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দলটির আহবায়ক নাহিদ ইসলামে নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়ে সনদে সই করে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে দীর্ঘ সাত মাস ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনার পর গত বছরের ১৭ অক্টোবর ঢাকায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। সেদিন ২৪টি দল সই করে। পরে আরও একটি দল সই করে। তবে এনসিপি ওই অনুষ্ঠানে যায়নি এবং পরবর্তীতেও সনদে স্বাক্ষর করেনি।
সনদ স্বাক্ষরের আগের দিন, ১৬ অক্টোবর, এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছিলেন, কোনো দল সেদিন সই না করলে পরবর্তী সময়ে সুযোগ থাকবে।
সই না করার বিষয়ে এনসিপি তখন সংবাদ সম্মেলনে তিনটি দাবি তোলে। প্রথমত, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া স্বাক্ষরের আগে প্রকাশ করতে হবে এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে তা জারি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, গণভোটে সনদের পক্ষে রায় এলে নোট অব ডিসেন্টের কার্যকারিতা থাকবে না। তৃতীয়ত, গণভোটের রায় অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ গাঠনিক ক্ষমতাবলে সংবিধান সংস্কার করবে এবং সংস্কার করা সংবিধানের নাম হবে ‘বাংলাদেশ সংবিধান, ২০২৬’।
পরে গত ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। এ আদেশের অধীনেই ১২ ফেব্রুয়ারি সনদের মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে সংবিধানসংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাবের ওপর গণভোট হয়।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়। ভোট পড়ে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন। ‘না’ ভোট দেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন।
দীর্ঘ বিতর্ক ও শর্তের পর অবশেষে এনসিপির এ স্বাক্ষরের মাধ্যমে জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শেষ হলো।