বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ন

সংগ্রাম ও নির্যাতনের সাক্ষী ফেরদৌসী বেগম মিলি, পটুয়াখালী সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা

মনজুর মোর্শেদ তুহিন (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৮২৫ বার পঠিত
ফেরদৌসী বেগম মিলি---------------------------ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, দুঃসহ নির্যাতন, কারাবরণ ও পেশাগত জীবনে বঞ্চনার ইতিহাস বুকে নিয়ে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন প্রত্যাশার ঘোষণা দিয়েছেন পটুয়াখালীর রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনের পরিচিত মুখ ফেরদৌসী বেগম মিলি।

তিনি বর্তমানে পটুয়াখালী মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী, পটুয়াখালী জাসাসের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কলাগাছিয়া এস এম সেকান্দার আলী চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি ও আদর্শের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত এই নেত্রী দাবি করেছেন দলের প্রতি আনুগত্য ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

ফেরদৌসী বেগম মিলির জন্ম ও বেড়ে ওঠা পটুয়াখালী শহরের নতুন বাজার সদর রোড এলাকায়। তার বাবা মরহুম আশরাফ উদ্দীন আহমেদ ছিলেন পটুয়াখালীর প্রথম প্রেস প্রতিষ্ঠান ‘আজিজিয়া প্রেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা। মা মরহুমা খবিরুন্নেছা ছিলেন স্থানীয় রাজনীতির সক্রিয় কর্মী এবং জাগোদলের সহ-সভানেত্রী। দলীয় সভানেত্রী ঢাকায় অবস্থান করলে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করতেন তার মা-ই।

খুলনা বিভাগীয় সম্মেলনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পটুয়াখালী সফরকালে মঞ্চে গান পরিবেশনের মাধ্যমে খুব কাছ থেকে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশীদার হন তিনি। তার ভাষায়, “প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ”—এই গান শুধু সংগীত ছিল না, ছিল আদর্শের অঙ্গীকার।

ছাত্রজীবন থেকে রাজপথের সংগ্রাম ছাত্রজীবনেই তিনি এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। সেই আন্দোলন-সংগ্রামের সময় তার পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়। ছোট ভাই ছাত্রদল নেতা আহসান মুনিরসহ পুরো পরিবারকে চাপে রাখা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

১৯৯৪ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করলেও ১৯৯৯ সালে বিভাগীয় প্রধান হওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রতিবাদ করায় সাময়িক বরখাস্ত পর্যন্ত হতে হয় তাকে। তবুও দলীয় আদর্শ থেকে সরে দাঁড়াননি।

২০১৯ সালে অসুস্থ হয়ে ভারতে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের সমালোচনা করায় তার বাসায় পুলিশি অভিযান চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। “যেন আমি কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসী”—এভাবেই বর্ণনা করেন সেই অভিজ্ঞতা। গ্রেপ্তার, মামলা এবং কারাবরণের দীর্ঘ সময় তার পরিবারকে চরম দুর্ভোগে ফেলে।

প্রায় পাঁচ বছর মামলা চলার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন আসে। তবুও তিনি দাবি করেন—দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি, বরং সকল হাসিনা-বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয়ভাবে রাজপথে ছিলেন।

কলেজে অধ্যক্ষ পদ শূন্য হলে গভর্নিং বডি তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তা অনুমোদন করে। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহলের চাপে তার বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত বেতন প্রদানের নির্দেশ দেন। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

ফেরদৌসী বেগম মিলি বলেন, “দলের জন্য জীবনের সেরা সময় রাজপথে কাটিয়েছি। নির্যাতন, কারাবরণ, বঞ্চনা—সবকিছু সহ্য করেছি কেবল দল ও আদর্শের জন্য। আজ যদি দল আমাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন দেয়, তবে সেটি হবে ত্যাগের স্বীকৃতি। আমি পটুয়াখালীসহ দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিবেদিত রাখতে চাই।”

তিনি কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং জনগণের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, তিনি রোটারি ক্লাব, পটুয়াখালী লেডিস ক্লাব, মহিলা সমিতি, পরিবার পরিকল্পনা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..