ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে গতি সঞ্চার হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পক্ষে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছেন পটুয়াখালীর সুপরিচিত শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও ত্যাগী নেত্রী ফেরদৌসী বেগম মিলি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এ সময় তিনি পটুয়াখালী জেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।
মনোনয়ন ফরম উত্তোলনের পর ফেরদৌসী বেগম মিলি বলেন, “আমি পটুয়াখালীর মানুষের সন্তান। এই জেলার মানুষের সুখ-দুঃখ, বঞ্চনা ও সম্ভাবনা খুব কাছ থেকে দেখেছি। দল যদি আমাকে সুযোগ দেয়, আমি জাতীয় সংসদে গিয়ে পটুয়াখালীর মানুষের পক্ষে কথা বলবো, এই জনপদের উন্নয়ন, অবহেলিত খাত ও নাগরিক অধিকারগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরবো।”
তিনি আরও বলেন, “উপকূলীয় এই জেলার মানুষের জীবন-সংগ্রাম, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানের যে বাস্তব চিত্র তা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা জরুরি। আমি সেই দায়িত্ব নিতে চাই।”
পটুয়াখালী পৌর শহরের সদর রোড এলাকায় বেড়ে ওঠা মিলি একটি রাজনৈতিকভাবে সচেতন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা মরহুমা খবিরুন্নেছা ছিলেন জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী যিনি সমাজসেবায় অবদানের জন্য মরণোত্তর ‘রত্নগর্ভা’ সম্মাননায় ভূষিত হন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ফেরদৌসী আক্তার মিলি এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে রাজপথে সংগ্রাম করেছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাঁর পরিবার বারবার প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে তবুও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
পেশাগত জীবনেও তিনি সংগ্রামী। ১৯৯৯ সালে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক কারণে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হন এবং প্রতিবাদ করায় সাময়িক বরখাস্ত হন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে মতপ্রকাশের কারণে সাইবার মামলায় কারাবরণ করতে হয় তাকে। দীর্ঘ পাঁচ বছর আইনি লড়াই শেষে তিনি খালাস পান যা তাঁর দৃঢ়তা ও আপসহীনতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বর্তমানে তিনি গলাচিপার কলাগাছিয়া এস এম সেকান্দর আলী চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি পটুয়াখালী মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী এবং জেলা জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন।
সামাজিক ক্ষেত্রেও তাঁর রয়েছে ব্যাপক সম্পৃক্ততা। জিয়া পরিষদের সহ সভাপতি, রোটারি ক্লাব পটুয়াখালী এর প্রেসিডেন্ট, লেডিস ক্লাব ও মহিলা সমিতির সদস্য এবং পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে তিনি সমাজ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
শিক্ষা ও মানবিক ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৩’ এবং ‘এরিস্টটল গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অর্জন করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে সম্মানিত হন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
পটুয়াখালীবাসীর প্রত্যাশা তাদেরই একজন সাহসী, অভিজ্ঞ ও ত্যাগী প্রতিনিধি জাতীয় সংসদে গিয়ে জেলার উন্নয়ন, উপকূলীয় জনপদের চ্যালেঞ্জ এবং মানুষের ন্যায্য অধিকারগুলো শক্তভাবে তুলে ধরবেন। আর সেই প্রত্যাশার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠতে চান ফেরদৌসী বেগম মিলি।