মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বেতাগীতে পল্লীবিদ্যুতের ভূতুড়ে ও অসঙ্গতিপূর্ণ বিলে গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ হরিরামপুরে জমি বিরোধে বোনকে মারধর, হোটেলে ভাঙচুরের অভিযোগ ভাই-ভাবির বিরুদ্ধে নান্দাইল উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখা রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব : তথ্যমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে প্রবাসীর বাড়িতে চুরির অভিযোগ আদমদীঘি উপজেলায় ইউএনও মাসুমা বেগম প্রশংসায় ভাসছেন ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৫৮ বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ডাক্তারের বিচার দাবি, প্রসূতি ও নবজাতক আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেবাচিমে চিকিৎসাধীন

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৮১১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

মোর মাইয়্যাডারে মইর্যা হালাইছেলে, আল্লায় বাঁচাইছে। মুই তালতলীর ডাক্তারের বিচার চাই, কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন অভিযোগ করেছেন তালতলী উপজেলার ছাতনপাড়া গ্রামের প্রসুতি সাবিনা আক্তারের মা রানী বেগম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে তিনি এ অভিযোগ করেন। রানী বেগম দাবি করেন, তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মাহফুজা আক্তারের ভুল চিকিৎসার কারণে তার মেয়ে ও নবজাতকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

জানা গেছে, ছাতনপাড়া গ্রামের হাসান হাওলাদারের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সাবিনা আক্তার গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তালতলীর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডা. মাহফুজা আক্তারের পরামর্শ নেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

গত রোববার সকালে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। এ সময় ভুল চিকিৎসার কারণে প্রসূতির পানি ভেঙে যায়, জরায়ুর মুখে জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় বলে দাবি সাবিনার মা রানী বেগম ও শাশুড়ি খাদিজা বেগমের।

পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়। তবে স্বজনরা প্রথমে আমতলীর ‘সময় মেডিকেয়ার এন্ড হসপিস’-এ নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করে এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। পরে মা ও নবজাতকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাদের বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রসূতির স্বামী হাসান হাওলাদার বলেন, আল্লাহর রহমতে এবং সময় মেডিকেয়ার এন্ড হসপিসের চিকিৎসকদের আন্তরিক চেষ্টায় আমার স্ত্রী ও সন্তান বেঁচে গেছে। তালতলী হাসপাতালে যা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই।

অভিযোগ অস্বীকার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহফুজা আক্তার বলেন, রোগীর জরায়ুতে কোনো আঘাত করা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। রোগীর স্বজনরা চিকিৎসা অব্যাহত রাখার পরামর্শ অমান্য করে তাকে নিয়ে গেছেন।

তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ভুপেন চন্দ্র মন্ডল বলেন, নরমাল ডেলিভারিতে জটিলতা হওয়ার কথা নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..