জুমার নামাজ আদায় করতে সাধারণ পোশাকেই মসজিদে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হতেই কৌতূহলী মানুষের নজরে পড়েন তিনি। মুহূর্তেই তৈরি হয় ভিন্ন এক পরিবেশ। রাজধানীর নৌবাহিনী সদরদফতর (নেভি হেডকোয়ার্টার) মসজিদের সামনে তখন ছিল অনাড়ম্বর দৃশ্য। কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা কঠোর নিরাপত্তার আবহ নয়। বরং শিশুদের সঙ্গে সহজভাবে মিশে যান দেশের সরকার প্রধান।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ আন্তরিক আলাপচারিতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেটি ভাইরাল হয়।
মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রীকে দেখেই একদল শিশু-কিশোর তাকে ঘিরে ধরে। তাদের চোখেমুখে ছিল বিস্ময় ও আনন্দ। এসময় এক শিশু সাহস করে প্রশ্ন করে, আংকেল, আপনি কি রোজা রেখেছেন?
শিশুটির সরল প্রশ্নে মুচকি হাসেন প্রধানমন্ত্রী। স্নেহভরা কণ্ঠে জবাব দেন, জ্বি, আমি সবগুলো রোজা রেখেছি। প্রধানমন্ত্রীর উত্তর শুনে শিশুদের মধ্যেও শুরু হয় রোজা নিয়ে গল্প। সবাই একে একে জানাতে থাকে কে কয়টি রোজা রেখেছে। এক শিশু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করে, সে সবগুলো রোজাই রেখেছে।
তবে পাশ থেকে তার বন্ধুরা জানায়, সে নাকি সেদিন সকালে খাবার খেয়েছে এবং রোজা রাখেনি। বন্ধুদের এমন মন্তব্যে শিশুটি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সহজ করে দেন তারেক রহমান। হাসিমুখে শিশুটিকে কাছে টেনে নেন তিনি। মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে জানতে চান প্রকৃতপক্ষে সে কয়টি রোজা রেখেছে।
তখন শিশুটি লাজুকভাবে স্বীকার করে, আজকের একটি ছাড়া বাকি সব রোজাই রেখেছি। শিশুদের এ সরলতা ও ধর্মীয় অনুরাগে মুগ্ধ হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাদের উৎসাহ দেন এবং উপস্থিত প্রতিটি শিশুর মাথায় হাত রেখে দোয়া করেন।
দেশের সরকার প্রধানকে এত কাছে পেয়ে শিশুদের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার সঙ্গে কথা বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা মন্তব্য করেন, সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এমন মানবিক ও সহজ আচরণ প্রশংসার দাবিদার।