মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন

রেকর্ডভাঙা মেসির জোড়া গোলে নকআউটে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস রিপোর্টার:
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ৫৭৫৩ বার পঠিত
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মঞ্চে চার বছর আগে যে স্বপ্নযাত্রার সমাপ্তি ঘটেছিল, নতুন আসরে ঠিক সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন লিওনেল মেসি। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও ছিলেন ম্যাচের একচ্ছত্র নায়ক। তার জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে আজ ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। তৃতীয় মিনিটেই লাউতারো মার্টিনেজকে ঘিরে অস্ট্রিয়ার দুই ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জের ঘটনায় পেনাল্টির দাবি ওঠে। প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে বললেও পরে ভিএআরের সহায়তায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন রেফারি এবং আর্জেন্টিনাকে পেনাল্টি উপহার দেন।

অষ্টম মিনিটে ইতিহাস গড়ার সুযোগ নিয়ে স্পটকিকে দাঁড়িয়েছিলেন মেসি। গোল করতে পারলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কীর্তি গড়তেন তিনি। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে বল পোস্টের বাইরে পাঠিয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক! মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় স্টেডিয়ামের একাংশ। সতীর্থ ও সমর্থকদের মাঝেও দেখা দেয় হতাশা।

তবে মেসির মতো মহাতারকারা ব্যর্থতাকে বেশিক্ষণ সঙ্গে রাখেন না। পেনাল্টি মিসের পরও তিনি বারবার আক্রমণ তৈরি করেছেন, সুযোগ সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চাপে রেখেছেন। ২১ মিনিটে তার একটি দারুণ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা শেষ মুহূর্তে প্রতিহত করেন অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডাররা। এরপর ৩৩ মিনিটে প্রায় ফাঁকা পোস্ট পেয়েও গোলবঞ্চিত হন, যখন ডেভিড আলাবা গোললাইন থেকে নিশ্চিত গোল রুখে দেন।

অবশেষে ৩৮ মিনিটে আসে সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। বাম প্রান্ত থেকে নিজেই আক্রমণ শুরু করে পেনাল্টি বক্সের সামনে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন মেসি। নিচু শটে বল পাঠিয়ে দেন গোলপোস্টের বাম কোণে। শুধু দলকে এগিয়ে দেওয়াই নয়, এই গোলের মাধ্যমেই তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের ১৭তম গোল করে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে যান। ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখে বিরতিতে যান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক!

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার কাছেই। এনজো ফের্নান্দেস, নিকোলাস গঞ্জালেস ও হুলিয়ান আলভারেস একাধিক আক্রমণ তৈরি করলেও দ্বিতীয় গোলের দেখা মিলছিল না। গঞ্জালেসের একটি হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আরেকটি সুযোগ প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ আটকে দেয়।

ম্যাচের শেষ দিকে জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যান আলভারেস। তার শট প্রতিহত করলেও বল চলে আসে মেসির কাছে। প্রথম প্রচেষ্টা রক্ষণভাগে আটকে গেলেও দ্বিতীয় চেষ্টায় আর ভুল করেননি তিনি। গোললাইন আগলে থাকা ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন।

মেসির জোড়া গোলে শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। এই জয়ে শুধু নকআউট পর্বই নিশ্চিত হয়নি, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যাশাও আরও জোরালো হয়েছে।

বিশ্বকাপে এক আসরে দলের প্রথম ৫ গোলই করেছেন একজন ফুটবলার-এই তালিকায় এখন শুধু মেসি আর রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কো।

এদিকে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে এখন আর্জেন্টিনা। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট দ্বিতীয় অস্ট্রিয়ার। তৃতীয় জর্ডান ও চতুর্থ আলজেরিয়া পয়েন্ট পায়নি।

অন্যদিকে ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে মেসির জন্য। পেনাল্টি মিসের হতাশা পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়া এবং জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দেওয়া—সব মিলিয়ে ডালাসের রাতটি হয়ে থাকল আর্জেন্টাইন মহাতারকার আরেকটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়!

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..