দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা, নৈরাজ্য ও সহিংসতার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। তাঁর উপস্থিতিতে জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
দুপুরে জেলা শহরের রথখোলা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি কালীবাড়ি মোড় এলাকায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি কিংবা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করে কোনো মহল যাতে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেন, দেশের জনগণ শান্তি, নিরাপত্তা ও একটি স্থিতিশীল পরিবেশ চায়। জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে গিয়ে কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের পাশে থেকে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলায় পা না দিয়ে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, মহিলা দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে বক্তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কর্মসূচি শেষ হয়।