বরগুনার বেতাগীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী পরিচয় দিয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগে কলেজ ছাত্রদলের দুই শীর্ষ নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন, বেতাগী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহীদুল হাসান এবং সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান।
সোমবার (২২ জুন) বরগুনা জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯ জুন বেতাগী শহরে মিছিলের প্রস্তুতিকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্য থেকে মো. নাঈম মৃধা নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে নিজেদের কর্মী দাবি করে বসেন বেতাগী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহীদুল হাসান এবং সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান।
শনিবার (২০ জুন) বেতাগী উপজেলা শাখা ছাত্রদলের অফিশিয়াল প্যাডে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহীদুল হাসান এবং সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান যৌথ স্বাক্ষরে একটি প্রত্যয়ন পত্র ইস্যু করেন। উক্ত প্রত্যয়ন পত্রে উল্লেখ করা হয়, মো. নাঈম মৃধা উপজেলা ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী। এই প্রত্যয়ন পত্রটি থানায় জমা দিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে ওই ছাত্রলীগ কর্মীকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে ছাত্রদলের তৃণমূল ও জেলা নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার (২২ জুন) বরগুনা জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সানাউল্লাহ সানি এবং সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম রনি এই বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেন।
জেলা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মেহেদী হাসানের স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বেতাগী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহীদুল হাসান এবং সহ-সভাপতি আরিফুর রহমানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।