মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বরগুনায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান তালতলীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস কৃষি বিভাগের নান্দাইলে সুরাশ্রম দাখিল মাদ্রাসা নবগঠিত এডহক কমিটির সংর্ধ্বনা বেতাগীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম অবহিতকরণ ও প্রেস কনফারেন্স আদমদীঘিতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা আদমদীঘিতে গর্ভকালীন সেবা কার্ড প্রদানে ২০০ করে ঘুষ নেয়ায় তোলপাড় তালতলীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস উপপরিচালকের আদমদীঘিতে বিএনপির কারা-নির্যাতিত ১৯ নেতাকর্মীকে সংবর্ধনা আমতলীতে ১৪৫ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নোটিশ না দেওয়ার অভিযোগ ব্যবসায়ীদের অসহায় মানুষের পাশে উত্তর তক্তাবুনিয়া আদর্শ যুব কল্যাণ সংস্থা, চিকিৎসা সহায়তা পেলেন দুই নারী

‎বরগুনায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ শত ছাড়িয়েছে: পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

মোঃ সাগর
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫
  • ৫৯১২ বার পঠিত

বরগুনা জেলায় ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।

‎

বরগুনা সদর, আমতলী, পাথরঘাটা, বেতাগী, তালতলী ও বামনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার ক্রমেই বাড়ছে। বরগুনা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে রোগীদের চাপ বেড়ে গেছে। অনেক হাসপাতালে রোগী রাখার জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে।

‎

‎বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জুন মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই প্রায় ৫০০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই শহর এলাকার বাসিন্দা হলেও গ্রামীণ অঞ্চলেও আক্রান্তের হার বেড়ে যাচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

‎

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা.তাজকিয়া সিদ্দিকা বলেন,

‎“চিকিৎসা দিতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। তবে প্রতিদিন যে হারে রোগী আসছে, তা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। হাসপাতালের বেড সংকট, স্যালাইন ও ওষুধের ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।”

‎

‎তিনি আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের মশার কামড়ে পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকায় হাসপাতাল চত্বরেও মশা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিয়েছি। এবং হাসপাতালে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বরগুনা ইউনিটের সেচ্ছাসেবক রা জনসচেতনা মূলক মাইকিং ও শৃঙ্খলা রক্ষায় করছে।

‎‎জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‎“আমরা ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি টাস্কফোর্স গঠন করেছি। জেলার প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে।”

‎

‎তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ জরুরি। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে না পারলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

‎

‎বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম  বলেন, ‎“ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোকেও মশক নিধনে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।”

‎‎তবে বরগুনা পৌরসভার অনেক নাগরিক অভিযোগ করছেন, পৌরসভার মশক নিধন কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। অনেক এলাকায় এখনো মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার করা হয়নি।

‎‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি ও পারিবারিক সচেতনতাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর। প্রতিদিন ঘরের আশপাশের জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়া, ফুলের টব, ড্রাম, কনটেইনার, এসি ট্রে ইত্যাদি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। এছাড়া দিনে ও রাতে মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহার ও মশা নিধনের স্প্রে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..