পবিত্র রমজান মাস এলেই শিবগঞ্জ থানার আশপাশের এলাকার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্মরণ করেন এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগের কথা। তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর উদ্যোগে থানা মসজিদে রমজানের পুরো ৩০ দিনব্যাপী ইফতারের আয়োজন স্থানীয়দের কাছে সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছিল।
প্রতিদিনের এই আয়োজনের মাধ্যমে আশপাশের রোজাদার ও নিম্ন আয়ের মানুষ সম্মানজনক পরিবেশে ইফতার করার সুযোগ পেতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেখানে ইফতার ছিল পরিপাটি ও পরিপূর্ণ—খেজুর, ফল, ছোলা, মুড়ি, জিলাপি, শরবতসহ নানা উপকরণে সাজানো। অনেকেই জানান, সে সময় তারা মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের মতো করেই ইফতার করতে পেরেছেন—যা সাধারণত তাদের সাধ্যের বাইরে।
এ উদ্যোগ শুধু খাদ্য বিতরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল পারস্পরিক সম্মান ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ। স্থানীয়দের মতে, এমন আয়োজন কেবল আর্থিক সামর্থ্যের বিষয় নয়; প্রয়োজন আন্তরিকতা, সদিচ্ছা ও মানবিক মানসিকতা।
তবে সংশ্লিষ্ট ওসির বদলির পরই থেমে যায় সেই মহতী আয়োজন। এরপর আর নিয়মিতভাবে এমন ইফতার কর্মসূচি দেখা যায়নি। ফলে এলাকাবাসীর মাঝে এখনো রয়ে গেছে এক ধরনের শূন্যতা ও আক্ষেপ।
এক বাসিন্দা বলেন, “এমন উদ্যোগ সহজে দেখা যায় না। তাঁর তুলনা তিনি নিজেই। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন আমাদের কথা ভেবেছেন, সেটাই বড় বিষয়।”
শিবগঞ্জ থানায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর এই মানবিক কর্মকাণ্ড আজও এলাকাবাসীর কাছে প্রশংসিত ও স্মরণীয় হয়ে আছে। রমজান এলেই অনেকেই সেই সময়ের কথা আবেগভরে স্মরণ করেন