মসজিদ ও ইমাম সমাজকে নিয়ে আইনমন্ত্রীর কথিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব সাখাওয়াত হোসেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “মসজিদগুলোতে বেহেশতের টিকিট বিক্রির জন্য ইমাম নিয়োগ দেয়া হচ্ছে”-এ ধরনের বক্তব্য শুধু একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেই নয়, বরং কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিকেও আঘাত করে।
সাখাওয়াত হোসেন লিখেছেন, একজন সাধারণ ব্যক্তি এমন মন্তব্য করলে সেটিকে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে দেখা যেত। কিন্তু একজন দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় পদধারী, বিশেষ করে আইনমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আসা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ, সংবেদনশীলতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
তিনি বলেন, মসজিদ কোনো ব্যবসাকেন্দ্র নয়; এটি মুসলমানদের ইবাদত, নৈতিক শিক্ষা, মানবিকতা ও সামাজিক ঐক্যের কেন্দ্র। ইমামরা সমাজে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং মানুষকে নৈতিক জীবনযাপনে উৎসাহিত করেন। তাই “বেহেশতের টিকিট বিক্রি”র মতো শব্দচয়ন ধর্মীয় নেতৃত্বকে উপহাস করার শামিল।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা উচিত। বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার দায় পুরো মসজিদ, ইমাম সমাজ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া দায়িত্বশীল আচরণ নয়।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধারণা জন্ম দিতে পারে যে রাষ্ট্র তাদের ধর্মীয় পরিচয় ও মূল্যবোধকে যথাযথ সম্মান করছে না।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ধর্মের নামে কোথাও প্রতারণা বা অপব্যবহার হয়ে থাকলে তা মোকাবিলার জন্য দেশে আইন, তদন্ত ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। তবে কয়েকজনের ভুলের দায় পুরো ধর্মীয় ব্যবস্থার ওপর চাপানো যেমন অন্যায়, তেমনি কোনো রাজনৈতিক নেতার দুর্নীতির কারণে পুরো রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করাও যৌক্তিক নয়।
তিনি দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে শালীনতা, প্রজ্ঞা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীল ভাষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নেতাদের বক্তব্য শুধু সংবাদের শিরোনাম নয়, সমাজের মানসিকতা ও সম্প্রীতিকেও প্রভাবিত করে।