বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে পরম ব্রহ্ম, লীলাপুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ও ভক্তদের ঢল নামে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মোরেলগঞ্জ সার্বজনীন কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরিসভা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় হরিসভা মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় ধর্মীয় নানা প্রতীক, শ্রীকৃষ্ণের বাণী ও ভক্তিমূলক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে মোরেলগঞ্জ শহর। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন থেকে শত শত নারী-পুরুষ, পূজারি ও ভক্ত এতে অংশ নেন। উৎসবকে ঘিরে পুরো শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন মোরেলগঞ্জ সার্বজনীন কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরিসভা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক দীপক কর্মকার। এতে উপস্থিত ছিলেন জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ধীরেশু কুমার রায়, সদস্য সচিব উত্তম কুমার কর্মকার, প্রভাষক প্রবীর দেবনাথ, কোষাধ্যক্ষ শিশির মণ্ডল, শিক্ষক অধীর রঞ্জন বিশ্বাস, গৌতম ব্যাপারী, লিটন কর্মকার, সুমন কর্মকারসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
শোভাযাত্রা শেষে হরিসভা মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় আলোচনা সভা। এতে বক্তারা শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ, মানবতা, প্রেম, মমতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা করেন।
বক্তারা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের হাতে বাঁশি যেমন প্রেম, ভালোবাসা ও মমতার প্রতীক, তেমনি তাঁর হাতে থাকা রণতূর্য অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক। তাই শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ধারণ করে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
ধর্মীয় আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, ধর্ম যার যার হলেও উৎসব সবার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই হোক জন্মাষ্টমীর মূল শিক্ষা।
অনুষ্ঠান শেষে আগত ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মোরেলগঞ্জের বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করা হয়।