বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
রোহিঙ্গা সংকটের সূচনা মিয়ানমারে, সমাধানও মিয়ানমারেই : তারেক রহমান সিলেট ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে নিখোঁজ মোরেলগঞ্জের যুবক, সন্ধানে পরিবার দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল রূপগঞ্জের সিরাজগঞ্জ ফিনিশিং মিলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কাপড়ের গোডাউন পুড়ে ছাই গোডাউন আদমদীঘিতে সাংবাদিক ও তাঁর বাবাকে মারপিট মামলায় গ্রেপ্তার ১ বিদায়বেলায় হরিরামপুরবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন ওসি আফজাল হোসেন বেতাগীর আলোচিত শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও মারধরের ঘটনার প্রধান আসামিসহ আটক ৩ জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পিবিআই কর্মকর্তা মনজুর রহমান পিপিএম পদকে ভূষিত নান্দাইলে জুয়া, মাদক কারবারী ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে- ইয়াসের খান চৌধুরী

রোহিঙ্গা সংকটের সূচনা মিয়ানমারে, সমাধানও মিয়ানমারেই : তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫৭৫১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাঁচ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এ বিশেষ সেশনের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আর অনির্দিষ্টকালের জন্য ১২ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের দায়িত্ব বহন করতে পারে না। মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই কেবল এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, অতীতে তাদের দূরদর্শী নেতৃত্বে সফলভাবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। তবে ২০১৭ সালের সহিংসতার পর এ সংকট আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মানবিকতার তাগিদে বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ নয় বছর ধরে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব বহন করায় বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও কক্সবাজারের স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তার তহবিল ক্রমশ সংকুচিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, ২০২৫ সালে ৯৩৪ মিলিয়ন ডলারের আবেদনের বিপরীতে ২০২৬ সালে মানবিক সহায়তার চাহিদা কমিয়ে ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনতে হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবিক সহায়তার ঘাটতি রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না।

সংকট উত্তরণে তারেক রহমানের পাঁচ দফা প্রস্তাব হলো—দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি; মিয়ানমারে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের ওপর সব ধরনের নির্যাতন বন্ধ করে তাদের নিজ জমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও স্থিতিশীল মানবিক তহবিল নিশ্চিত করা; আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে চলমান জবাবদিহিমূলক বিচারে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্র ও ডিজিটাল প্রতারণার মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসঙ্গে এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গাদের ভাগ্য নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির আরেকটি গল্প না হয়ে ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও আশার গল্প হয়ে ওঠে।

এ ছাড়া বুধবার প্রধানমন্ত্রী ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায়ও বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে সাধারণ বিতর্কে এটি হবে তার প্রথম ভাষণ।

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিতে মানবিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..