শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীনের ১৭টি চুক্তি-সমঝোতা স্মারক সই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ লালকার্ডের রেকর্ড ব্রাজিলের দখলের চীনের করিডোর প্রস্তাবকে ইতিবাচক দেখছে সরকার: মাহাদী আমিন শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হোসেনি দালান থেকে শুরু তাজিয়া মিছিল ডিভোর্সের পর দীর্ঘ অনুপস্থিতি, সাবেক স্বামীর মৃত্যুর পর সম্পত্তিতে সক্রিয়—মিরা খানকে ঘিরে বিতর্ক অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল চীনের সঙ্গে ২ চুক্তিসহ ১৩ সমঝোতা স্মারক সই বামনার মেয়ে মঠবাড়িয়ার স্ত্রী, স্বামী শশুর শাশুড়ির নির্যাতনে গৃহবধূ বিচার চেয়ে কাঠালিয়া প্রেস ক্লাবে

ডিভোর্সের পর দীর্ঘ অনুপস্থিতি, সাবেক স্বামীর মৃত্যুর পর সম্পত্তিতে সক্রিয়—মিরা খানকে ঘিরে বিতর্ক

মনজুর মোর্শেদ তুহিন (পটুয়াখালী প্রতিনিধি):
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ৫৭৬৮ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে প্রয়াত শাহাবুদ্দিন খানের মৃত্যুর পর তার ডিভোর্সপ্রাপ্ত প্রথম স্ত্রী মিরা খানকে কেন্দ্র করে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ৬৫ বছর বয়সী বড় ভাই মো. খলিলুর রহমান খানের অভিযোগ, সন্তানদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলে মিরা খান দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্প্রীতি নষ্ট করে যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তিতে অনধিকার হস্তক্ষেপ করছেন এবং তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানির মধ্যে ফেলেছেন।

জানা যায়, মির্জাগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুই সহোদর খলিলুর রহমান খান ও শাহাবুদ্দিন খান জীবনের অধিকাংশ সময় একসঙ্গে কাটিয়েছেন। জীবিকার প্রয়োজনে গ্রামের বাইরে থাকলেও পৈত্রিক ভিটা, পুকুর, বাগান ও অন্যান্য সম্পত্তি যৌথভাবে পরিচালনা করতেন। পটুয়াখালী হাউজিং এস্টেটে একসঙ্গে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন। পৈত্রিক জমিতে পুকুর খনন, মাছ চাষ, বৃক্ষরোপণ ও জমি ক্রয় সবই ছিল দুই ভাইয়ের যৌথ উদ্যোগ।

পরিবারের দাবি, ২০১২ সালে শাহাবুদ্দিন খানের প্রথম স্ত্রী মিরা খান স্বেচ্ছায় তালাক দিয়ে চলে যান। সে সময় তাদের এক ছেলে সুজা উদ্দিন খান নিলয় ও এক মেয়ে সুনহেরা খান ছিল। পরে শাহাবুদ্দিন খান পারভীন আক্তারকে বিয়ে করেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহাবুদ্দিন খানের মৃত্যুর পর প্রস্তুত করা ওয়ারিশ সনদেও পারভীন আক্তারের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শাহাবুদ্দিন খানের মৃত্যুর পর মিরা খান সন্তানদের অধিকার আদায়ের কথা বলে প্রাক্তন স্বামীর বাড়ি ও যৌথ মালিকানাধীন পৈত্রিক সম্পত্তিতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। খলিলুর রহমান খানের পরিবারের দাবি, তিনি দুই ভাইয়ের যৌথ মালিকানাধীন পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন, গাছ বিক্রি করেন এবং সম্পত্তি দেখভালের জন্য স্থানীয় একজনকে নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে শহরের পাঁচতলা বাড়ি থেকেও দ্বিতীয় স্ত্রী পারভীন আক্তারকে ছেলে নিলয়ের সহায়তায় বের করে দিয়ে বাড়ির দখল নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, তালাকের পর দীর্ঘ সময় মিরা খানকে গ্রামের বাড়িতে দেখা যায়নি। শাহাবুদ্দিন খানের মৃত্যুর পরই তার নিয়মিত আসা-যাওয়া শুরু হয়।

সম্প্রতি যৌথ মালিকানাধীন দুটি পুকুরের একটিতে মাছ চাষের উদ্যোগ নেন খলিলুর রহমান খানের ছেলে সৌরভ খান। তিনি জানান, প্রবাসে থাকা চাচাতো ভাই নিলয় খানের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় মিরা খানের সঙ্গে আলোচনা করে একটি পুকুরে মাছ চাষের প্রস্তুতি নেন। পরে পুকুরে সেচকাজ শুরু হলে নিলয় খান মির্জাগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেচকাজ বন্ধ করে উভয় পক্ষকে সমঝোতার পরামর্শ দেয়। বর্তমানে পুকুরটি নিয়ে সব কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

মো. খলিলুর রহমান খান বলেন, আমি ও আমার ছোট ভাই সারাজীবন একসঙ্গে থেকেছি। যৌথ মালিকানায় বাড়ি করেছি, পুকুর কেটেছি, গাছ লাগিয়েছি, সম্পত্তি কিনেছি। ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার সাবেক স্ত্রী সন্তানদের অধিকারের কথা বলে আমার অজান্তে নানা কর্মকাণ্ড করছেন। জীবনে কখনও থানা-পুলিশের মুখোমুখি হইনি। এখন বৃদ্ধ বয়সে নিজের ভাইয়ের ছেলের অভিযোগে আমাকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

সাবেক চৌকিদার শাহজাহান খান বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখছি খলিলুর রহমানই বাড়ির সবকিছু দেখাশোনা করতেন। তিনিই পুকুর খনন করেছেন, গাছ লাগিয়েছেন। শাহাবুদ্দিন খানের স্ত্রীকে আগে তেমন আসতে দেখিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা হারুন বলেন, বাড়ির সবকিছু খলিলুর রহমানই দেখাশোনা করতেন। শাহাবুদ্দিন খানের মৃত্যুর পরই মিরা খানের আসা-যাওয়া শুরু হয়েছে। এর আগে তাকে কখনও দেখিনি।

অভিযোগের বিষয়ে মিরা খান বলেন, আমি বহু বছর আগে শাহাবুদ্দিন খানকে তালাক দিয়েছি। কিন্তু নিলয় ও সুনহেরা আমার সন্তান। ওদের বাবার মৃত্যুর পর মা হিসেবে এবং সন্তানদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব থেকেই আমি সম্পত্তির বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। আমি যা করছি, ছেলে নিলয়ের নির্দেশেই করছি।

জানা গেছে, মিরা খানের পৈত্রিক বাড়ি বরগুনার আমতলী পৌরসভায়। ২০১২ সালে তালাকের পর তিনি পুনরায় বিয়ে করলেও সেই সংসারও টেকেনি। বর্তমানে তিনি আমতলী উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে পরিচিত।

এদিকে, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় এলাকাজুড়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উত্তরাধিকার ও যৌথ সম্পত্তি-সংক্রান্ত এ বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..