সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মির্জাগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থ আত্মসাৎ ও শ্রেণিকক্ষে ধান রাখার অভিযোগ এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক হচ্ছে সংশোধন হচ্ছে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন জর্ডানকে গুঁড়িয়ে আর্জেন্টিনার তিনে তিন উদ্ভাবনী প্রকল্পে জাতীয় স্বীকৃতি: পুরুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য মাসে মাত্র ৫০ টাকা দিন মজুরি, জীবনযাপন সান্তাহারের হরিজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রস্তাবিত বাজেটে বৈষম্যের শিকার দক্ষিণবাংলাবাসীর মানববন্ধন বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের রূপরেখা দিয়েছে প্রস্তাবিত বাজেট : আলতাফ হোসেন চৌধুরী আমতলীতে স্কুল, মসজিদ, ইউনিয়ন পরিষদসহ চার প্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ চুরি দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

মির্জাগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থ আত্মসাৎ ও শ্রেণিকক্ষে ধান রাখার অভিযোগ

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৫৭৬২ বার পঠিত
ক্ষমতা ও অনিয়মের আখড়া ‘দক্ষিণ মির্জাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ মির্জাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যেন অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়মিত স্কুলে অনুপস্থিতি, এমনকি শ্রেণিকক্ষে ধানের বস্তা রেখে পাঠদান ব্যাহত করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে খোদ প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম সিকদারের বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষাদানের মতো পবিত্র পেশায় যুক্ত থেকেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে ধর্ষণ ও লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের মতো একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলা।

​সম্প্রতি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের আকস্মিক পরিদর্শনে এসব অনিয়মের সত্যতা মেলার পর প্রধান শিক্ষকসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কৈফিয়ত তলব (শোকজ) করা হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষে ধানের গুদাম, ভেঙে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা:

​অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৭ জুন মির্জাগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব মোঃ জিয়াউর রহমান বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখতে পান ৫ম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চের পরিবর্তে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ধানের বস্তা। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা বিভাগকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

​পরদিন ২৮ জুন সকাল ৯টায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মুজিবুর রহমান বিদ্যালয়টি আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে উঠে আসে আরও ভয়াবহ চিত্র:

​শিক্ষার্থীর তীব্র সংকট: প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৫২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল মাত্র ১৭ জন। উপস্থিতির হার মাত্র ৩৩%, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

​শিক্ষকদের চরম অযোগ্যতা: দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা পাঠদানকালে ‘ভট্টাচার্য’ এবং ‘নবকৃষ্ণ’ শব্দ দুটির যুক্তবর্ণ শিক্ষার্থীরা তো দূরের কথা, কর্তব্যরত সহকারী শিক্ষক জনাব মোঃ জলিলুর রহমান এবং জনাব মোঃ আব্দুর রহমান নিজেও সঠিকভাবে ভেঙে দেখাতে পারেননি।

​প্রধান শিক্ষকের ‘ইচ্ছাধীন’ হাজিরা: স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম প্রায়শই সকালে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই ব্যক্তিগত কাজে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।

১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রভাব ডিশ ব্যবসায়ীকে হয়রানি:

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন আব্দুস সালাম সিকদার। তার মতের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হতো।

​ভুক্তভোগী স্থানীয় ডিশ ব্যবসায়ী মাহাবুব জানান, প্রধান শিক্ষকের কাছে বকেয়া ডিশের বিল চাওয়াটাই ছিল তার অপরাধ। এই বিল চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাহাবুবের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা ঠুকে দেন এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছেন।

​ধর্ষণ মামলা ও গণধোলাইয়ের শিকার ​প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম সিকদারের বিরুদ্ধে রয়েছে নৈতিক স্খলন ও নারীঘটিত মারাত্মক অভিযোগ। মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের পায়রাকুঞ্জ গ্রামের এক নারীর ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা হয়েছিল সেই মামলায় ডি এনএ টেস্টে ধর্ষনের প্রমান হওয়ায় তার বিরুদ্ধে  মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ বিঞ আদালতে চারসিট দাখিল করেন।  সেই মামলায়  ধর্ষিতা নারীকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে মামলা তুলে নেয়।

​মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে শিক্ষক আব্দুস সালামকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তীতে তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল।

লাখ লাখ টাকা ঋণ আত্মসাৎ:

​শিক্ষকতার আড়ালে আব্দুস সালাম বিভিন্ন ঠিকাদারি ও ব্যক্তিগত ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সমবায় সমিতি থেকে ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া, ঢাকার এক ঠিকাদারের প্রায় ১৩ লাখ টাকা জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

​শ্রেণিকক্ষে ধানের বস্তা রাখা, শিক্ষার্থীদের ভুল শেখানো এবং প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন:

​”আমরা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। শ্রেণিকক্ষে ধানের বস্তা রাখা এবং শিক্ষকদের অযোগ্যতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার জন্য কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।”

​এই সব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম সিকদার সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।

​মির্জাগঞ্জ থানা ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে   ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..