বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমণ ঘিরে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) থেকেই বিমানবন্দরের ভেতরে যাত্রী ছাড়া আর কেউ যেন প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ড্রোনের বিষয়ে দেয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশনা। ওই এলাকায় ড্রোন ওড়ানোয় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ বলেন, নিরাপত্তার কোনও সংকট হবে না। সব বিষয় মাথায় রেখেই আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বলবৎ করেছেন। পুরো এলাকাজুড়েই কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, এভসেক, বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, আনসার ব্যাটালিয়ন এবং ডিএমপির পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবেন।
তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে কয়েক হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রবেশে থাকবে কড়াকড়ি। শুধু যাত্রী ছাড়া আর কাউকে বিমানবন্দরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। যেসব যাত্রী ভেতরে যাবেন তাদের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে ঢুকতে হবে।’
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, অন্তত পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। বুধবার বিকাল থেকেই নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত সদস্যদের মোতায়েন শুরু হবে। বিমানবন্দর গোলচত্বর থেকে শুরু করে বেবিচক সদর দফতর, অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল এলাকা, পণ্য আমদানি রফতানির ৯ নম্বর গেট ছাড়াও ভেতর ও বাহিরের প্রতিটি গেটকে ঘিরে থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা।
সূত্র আরও জানায়, এসবের পাশাপাশি বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও থাকবে কড়াকড়ি। নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে কাউকে চলাফেরা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কাস্টমস এরিয়াতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিদের বৈধ কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে।
এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অপারেশনাল কমান্ডার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইটে ডিউটি করে। সেক্ষেত্রে আমাদের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে। আমাদের কুইক রেসপন্স টিম (সিআরটি), ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করা হবে। অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের চলাচলের সময় পুলিশি পাহারাসহ বিশেষ নিরাপত্তা দেয়া হবে। তার বাসভবন ও অফিস এলাকাতেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
আরও জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত তারেক রহমানের যাত্রাপথে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিমের সদস্যরাও মাঠে থাকবেন।
ডিএমপি সূত্র জানায়, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ঢাকা মহানগরজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিন রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাগম হতে পারে—এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা জানাতে সম্ভাব্য জনসমাগম শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত আচরণের আহবান জানানো হয়েছে।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত তারেক রহমানের নিরাপত্তা সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দলের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে। তার নেতৃত্বে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সসহ একাধিক নিরাপত্তা টিম কাজ করবে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
প্রায় দেড় যুগ পর বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় পর তার দেশে ফেরাকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। দলের নেতারা জানিয়েছেন, ওই দিন ঢাকায় পৌঁছালে দলীয়ভাবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে।