কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রমে বড় ধরনের ধস নেমেছে। উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাটি উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশ ও কৃষিজমির মারাত্মক ক্ষতি করে আসছিল। তবে তাড়াইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জিসান আলীর সময়োপযোগী ও দৃঢ় পদক্ষেপে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জিসান আলীর নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে দুইজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জনপ্রতি ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
প্রশাসনের এই কার্যকর অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পর প্রশাসনের এমন দৃশ্যমান উদ্যোগে পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষার ব্যাপারে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জিসান আলী বলেন, “বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাড়াইল উপজেলাকে একটি অপরাধমুক্ত, পরিবেশবান্ধব ও সমৃদ্ধশালী উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য। অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”
এসিল্যান্ডের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ। তাঁদের মতে, একজন সৎ ও দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তার দৃঢ় অবস্থানই একটি এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি অব্যাহত থাকলে তাড়াইল উপজেলায় অবৈধ মাটি কাটা ও অন্যান্য অনিয়ম দ্রুতই নির্মূল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।