বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সংগ্রাম ও নির্যাতনের সাক্ষী ফেরদৌসী বেগম মিলি, পটুয়াখালী সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা তাড়াইলে মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় দারুল কুরআন মাদ্রাসার স্বাগত মিছিল বিশিষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞ শিক্ষাবিদ ইয়াসের খান চৌধুরীকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী করায় নান্দাইলে আনন্দ মিছিল চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু জাতির উদ্দেশে ভাষণ: সব সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়ার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে মন্ত্রী পরিষদের শ্রদ্ধা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তারেক রহমানের শপথ বরগুনার সংরক্ষিত মহিলা আসনে মিরা খানকে দেখতে চায় এলাকাবাসী জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

টিয়াখালী কলেজে চায়না কোম্পানির দখল, ইউএনওর নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭৭৯ বার পঠিত

বরগুনার আমতলী উপজেলায় চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (সিএনপিসি)-এর খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান সামগ্রী টিয়াখালী কলেজ ভবনে রাখার কারণে টানা আট দিন ধরে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। কলেজ অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. খালেদ মোশাররফ সোহেলের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশ অমান্য করে কোম্পানির লোকজনকে কলেজ ভবন ব্যবহার করতে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজ ভবনের কক্ষগুলোতে কোম্পানির অনুসন্ধান সামগ্রী মজুত ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া কলেজ প্রাঙ্গণের খোলা পায়খানা ব্যবহারের ফলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের কাজ করছে। এ কাজে বর্তমানে প্রায় ৩৫০ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন। চলতি জানুয়ারির শুরুতে তারা আমতলী উপজেলায় সার্ভে কার্যক্রম শুরু করেন।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী কোম্পানির লোকজনকে টিয়াখালী কলেজ প্রাঙ্গণে তাবু স্থাপন করে থাকার অনুমতি দিলেও কলেজ ভবন ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেননি বলে জানান। তবে অভিযোগ রয়েছে, কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ইউএনওর নির্দেশ অমান্য করে কলেজ ভবনের চারচালা ভবনে নিচতলা ও চতুর্থ তলা কোম্পানির ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক উপস্থিত নেই। চারতলা কলেজ ভবনের নিচতলা ও চতুর্থ তলায় কোম্পানির অনুসন্ধান সামগ্রী স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ভবনের ভেতরেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান করতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কলেজ ভবনের ভেতরে কোম্পানির লোকজন থাকায় এবং পরিবেশ দূষণের কারণে গত আট দিন ধরে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ফলে তারা কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের ক্যাম্প ইনচার্জ মো. আরজ আলী বলেন, আমি পাঁচ দিন আগে এখানে এসেছি। তবে শুনেছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কলেজ প্রাঙ্গণে তাবু স্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিয়াখালী কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. খালেদ মোশাররফ সোহেল বলেন, নিউজ করতে চান, নিউজ করেন দেখি তাতে আমার কী হয়। এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, কোম্পানির লোকজনকে কলেজের বাইরে তাবু স্থাপন করে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলেজ ভবন ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। পাঠদান বন্ধ করে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..