বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বাগেরহাট-৪ আসনে লড়বেন বিএনপি নেতা কাজী শিপন ইসলাম কোনো সংগঠনের নাম নয় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত এবারের বিপিএল গণভোটের প্রচারে অংশ নেওয়া সমাজসেবা কর্মকর্তাকে শোকজ: প্রশাসনের দ্বৈতনীতির অভিযোগ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সন্ধ্যায় বৈঠক করবেন তারেক রহমান তাড়াইলে মাদকের সয়লাব: অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রতিবেশীর হাঁস মুরগিতে ফসলের ক্ষতি, নিভে গেল কৃষকের প্রাণ জামায়াত থাকবে কিনা সেটা তাদের ব্যাপার : ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র টিয়াখালী কলেজে চায়না কোম্পানির দখল, ইউএনওর নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ রাজাপুর-কাঠালিয়া আসনে সৈকতের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

ইসলাম কোনো সংগঠনের নাম নয়

সাখাওয়াত হোসেন
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭৫২ বার পঠিত
সাখাওয়াত হোসেন ------------------------------ছবি: সংগৃহীত

ধর্ম ও সংগঠনের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে গেলে সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সেই বিভ্রান্তি নতুন রূপে সামনে আসছে, যখন কোনো কোনো মহল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্দিষ্ট সংগঠনকে ইসলামের সমার্থক হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। বাস্তবতা হলো, পৃথিবীর কোনো সংগঠনই ইসলাম নয়। এই সত্য শুধু একটি বিশেষ দলের ক্ষেত্রে নয়-সব ধরনের ধর্মভিত্তিক, রাজনৈতিক কিংবা আদর্শিক সংগঠনের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

ইসলাম কোনো মানবসৃষ্ট মতবাদ নয়, কোনো সাংগঠনিক কাঠামোর ফলও নয়। এটি আল্লাহপ্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যার উৎস কুরআন ও সুন্নাহ। ইসলাম পরিপূর্ণ হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত অপরিবর্তনীয় থাকবে। এর বিপরীতে সংগঠন হলো মানুষের তৈরি একটি ব্যবস্থা-যার নীতিমালা, কর্মসূচি ও কৌশল সময় ও বাস্তবতার সঙ্গে বদলায়। পরিবর্তনশীল বিষয় কখনোই চূড়ান্ত মানদণ্ড হতে পারে না। এ মৌলিক পার্থক্যটি অস্বীকার করলেই সমস্যার সূত্রপাত হয়।

যখন কোনো সংগঠনকে ইসলাম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন সেই সংগঠনের রাজনৈতিক অবস্থান, কৌশলগত সিদ্ধান্ত কিংবা সাংগঠনিক ব্যর্থতাকেও ইসলামের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা শুরু হয়। এতে একদিকে ইসলাম অযথা বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়ে, অন্যদিকে ধর্মীয় অনুভূতি সাংগঠনিক স্বার্থে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে ভিন্নমতের মুসলমানদের ইসলামের বাইরে ঠেলে দেওয়ার মানসিকতা জন্ম নেয়, যা সমাজে বিভাজন ও অসহিষ্ণুতা গভীর করে।

বাস্তবতা হলো, ইসলাম লক্ষ্য-সংগঠন কেবল একটি মাধ্যম। লক্ষ্য ও মাধ্যম এক নয়। একটি সংগঠন ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, সমাজসংস্কার বা দাওয়াতি কাজে অবদান রাখতে পারে-এ জন্য তা সম্মানের দাবিদারও হতে পারে। কিন্তু সেই সংগঠন নিজেই ইসলাম-এমন দাবি আদর্শগতভাবে ভুল এবং সামাজিকভাবে বিপজ্জনক। কারণ এতে ইসলামের সার্বজনীনতা ক্ষুণ্ন হয় এবং ধর্ম একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সংগঠন মানুষের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় সেখানে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। সিদ্ধান্তে ভুল, নেতৃত্বে সীমাবদ্ধতা কিংবা কৌশলগত ব্যর্থতা থাকতেই পারে। এসব বিষয়ে সমালোচনা করা মানেই ইসলামের বিরোধিতা-এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলাম নিজেই প্রশ্নাতীত, কিন্তু ইসলাম বাস্তবায়নের দাবিদার কোনো সংগঠনই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। এই পার্থক্য না মানলে ধর্মীয় চিন্তার বিকাশ থেমে যায় এবং অন্ধ আনুগত্যের সংস্কৃতি তৈরি হয়।ইসলামের ইতিহাসও এই সত্যের সাক্ষ্য দেয়। নবী মুহাম্মদ (সা.)- সাহাবিরা ইসলামের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কিন্তু তাঁরা কখনো কোনো সংগঠনকে ইসলামের প্রতিরূপ হিসেবে দাঁড় করাননি। তাঁদের পরিচয় ছিল প্রথমত মুসলিম—কোনো দলীয় বা সাংগঠনিক পরিচয় তার পরে। সেই কারণেই ইসলাম ছিল ঐক্যের শক্তি, বিভাজনের হাতিয়ার নয়।

বর্তমান বাস্তবতায় এই বোধ আরও জরুরি। ধর্ম যখন সংগঠনের গণ্ডিতে আবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন তা মানুষের মুক্তির বদলে নিয়ন্ত্রণের উপকরণে পরিণত হয়। অথচ ইসলাম এসেছে মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত করতে, কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে বেঁধে রাখতে নয়। ইসলাম সবার-কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠনের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়।

সাখাওয়াত হোসেন
অনলাইন এক্টিভিস্ট

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..