চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর মডেল থানাধীন চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া গ্রামে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুইজন নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় জেলা যুবলীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ফাটাপাড়া গ্রামের জনৈক কালাম মিয়ার পিতা চাঁদ মোহাম্মদের বাড়িতে ককটেল তৈরি করার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হন।
নিহতরা হলেন—
১) জিহাদ (১৭), পিতা-মনির, সাং- কথুনিপাড়া রামচন্দ্রপুর হাট, ইউনিয়ন-ঘোড়াপাখিয়া, থানা-শিবগঞ্জ।
২) আল আমিন (১৭), পিতা-মোস্তাফিজ হোসেন, সাং-ধামার মোড়, ইউনিয়ন-রানীহাটি, থানা-সদর মডেল।উভয়ের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।
আহতরা হলেন—১) মিনহাজ (২২),
২) বাবলু (২০),
৩) শুভ (২০)।
আহতদের প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ দেখতে পায়, ককটেল বিস্ফোরণের ফলে একটি টিনশেড কক্ষের দুই পাশের দেয়াল সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং ওপরের টিন উড়ে গিয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ, সিআইডি, র্যাব ও বোম ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে।
ঘটনার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোঃ শরিফ উদ্দিন ওরফে দুলাল (৪০)-কে গ্রেফতার করে। তিনি জেলা যুবলীগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সহ-সভাপতি। গ্রেফতারকৃত আসামির পিতা মৃত মকবুল হোসেন। তার স্থায়ী ঠিকানা চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চরবাগডাঙ্গা ফাটাপাড়া, থানা ও জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানাধীন নতুন বিলশিমলা এলাকায় বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে পাকা রাস্তা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে যথাযথ পুলিশ এসকর্টের মাধ্যমে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।