বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বাগেরহাট-৪ আসনে লড়বেন বিএনপি নেতা কাজী শিপন ইসলাম কোনো সংগঠনের নাম নয় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত এবারের বিপিএল গণভোটের প্রচারে অংশ নেওয়া সমাজসেবা কর্মকর্তাকে শোকজ: প্রশাসনের দ্বৈতনীতির অভিযোগ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সন্ধ্যায় বৈঠক করবেন তারেক রহমান তাড়াইলে মাদকের সয়লাব: অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রতিবেশীর হাঁস মুরগিতে ফসলের ক্ষতি, নিভে গেল কৃষকের প্রাণ জামায়াত থাকবে কিনা সেটা তাদের ব্যাপার : ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র টিয়াখালী কলেজে চায়না কোম্পানির দখল, ইউএনওর নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ রাজাপুর-কাঠালিয়া আসনে সৈকতের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

পটুয়াখালীর চার আসনে ভোটের সমীকরণ : অভিমান, বিভাজন ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

মনজুর মোর্শেদ তুহিন (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭৬৬ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী জেলার চারটি সংসদীয় আসনে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর সরব উপস্থিতিতে নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে পটুয়াখালী-১, ৩ ও ৪ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বিধা-বিভক্তি ও অভিমানী নেতা-কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তা দলটির নির্বাচনী কৌশলকে জটিল করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভাজনের সুযোগ নিয়ে বিরোধী জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে পারে।

অন্যদিকে পটুয়াখালী-২ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে সরাসরি ভোটের লড়াই হওয়ায় এই আসনটি জেলার সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৫টি পৌরসভা ও ৭৭টি ইউনিয়নের ৫১৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ লাখ ৯ হাজার ৫৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯৮৬ জন এবং নারী ভোটার ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৫ জন।

এখন পর্যন্ত জেলায় বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা না ঘটলেও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচন ঘিরে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী দলের হেভিওয়েট প্রার্থী। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘ ১৬ বছরে প্রায় ৮০০ বার আদালতে হাজিরা দেওয়ার অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।

তবে এই আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় এবং শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের ভেতরে একটি চাপা অভিমান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মনোনয়নের আগে তৃণমূল বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় তার প্রভাব থাকলেও বর্তমানে তিনি দলীয় প্রচারণা চালাচ্ছেন কিন্তু পটুয়াখালী ১ আসনের প্রচারণায় পুরোপুরি সক্রিয় নন।

এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থীর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জামায়াত ইসলামের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান, যিনি নিজস্ব ভোটব্যাংক সম্প্রসারণে ধারাবাহিক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, দলের ভেতরে প্রতিহিংসা নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার। দীর্ঘদিনের দলীয় কোন্দল নিরসন করে মনোনয়ন পাওয়ায় তিনি তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পেয়েছেন। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামাতের প্রভাবশালী নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাউফলে ধারাবাহিক গণসংযোগের মাধ্যমে নিজস্ব ভোটব্যাংক গড়ে তুলছেন তিনি।

দুই প্রার্থীরই শক্ত সংগঠন ও সমর্থন থাকায় এই আসনে ফলাফল নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মো. হাসান মামুন।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় হাসান মামুনকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও নির্বাচনের আগেই তিনি একটি শক্ত ভোটব্যাংক তৈরি করতে সক্ষম হন। ফলে এই আসনে বিএনপির সমর্থক ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যা নির্বাচনী ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

নুরুল হক নূর বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে শিক্ষা, কৃষিপণ্য ও মাছের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতসহ দশমিনা ও গলাচিপার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করব।

পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন, দলের নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় রাজনীতিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।

তবে এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটের প্রার্থী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন। সাবেক বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তার নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে ২০২৫ সালের ৬ মে তিনি ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেন।

এর ফলে এই আসনে বিএনপির ভোট বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের সমর্থকদের একটি বড় অংশ তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ধানের শীষে ভোট পেলে পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটাকে ঘিরে বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

পটুয়াখালী-১ আসন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও পটুয়াখালী-২, ৩ ও ৪ আসনে তুমুল প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে ভোটের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সরাসরি ভূমিকা ফলাফলে নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..