শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
গোলাপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি অফিসের চেয়ারে বসে তরুণীর টিকটক ভিডিও আমতলীতে যুবদল নেতার জামায়াতে যোগদান মুরাদনগরে সংবর্ধনায় সিক্ত হলেন নেত্রকোনার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান ভূতাইল সেতুবন্ধন প্রবাসী মানব কল্যাণ সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা রংপুর প্রেসক্লাবের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেরিনা লাভলীর বাসায় পুলিশের তল্লাশি তাড়াইলে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের প্রদর্শনী, কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণ বেতাগীতে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আমতলীতে কলেজ ছাত্রী অপহরণ মামলার দুই আসামী গ্রেপ্তার বন্ধ হচ্ছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি সহ তিন স্থলবন্দর-উপদেষ্টা পরিষদ যে বয়সে বই-খাতা হাতে স্কুলে থাকার কথা, সেই বয়সে অটোরিকশার স্টিয়ারিং হাতে শিশুরা

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক সড়ক সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসীর আন্দোলন

রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৭৫৬ বার পঠিত
দুর্ঘটনা-যানজটের দুঃসহ ভোগান্তি, মানবিক বিপর্যয়ে ক্ষুব্ধ জনতা ------- সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক পূর্বাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বলা হয় এই সড়ককে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, বাস ও ছোট পরিবহন চলাচল করে এ মহাসড়ক দিয়ে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির চেহারা ভাঙাচোরা ও সরু। যানজট, দুর্ঘটনা আর প্রাণহানির মিছিল যেন এখন নিয়মিত ঘটনা।

গত সপ্তাহেই দেবিদ্বারের চরবাকর এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুইজন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ছিলেন স্কুলপড়ুয়া এক কিশোর। তার মা আজও শোকে বিহ্বল হয়ে আছেন। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন
“আমার ছেলেটা আর কোনোদিন স্কুলে যাবে না। এই সড়ক যদি প্রশস্ত হতো, হয়তো আমার সন্তানকে আজ বাঁচানো যেত।” এমন হৃদয়বিদারক ঘটনাই আন্দোলনের মূল প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনো পরিবারকে শোক বয়ে নিতে হচ্ছে এই মহাসড়কের কারণে।

মুরাদনগরের স্থানীয় স্কুলছাত্রী সাবিহা আক্তার জানায়, প্রতিদিনই তারা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়।
“গাড়ির চাপ এত বেশি থাকে যে রাস্তা পার হওয়া যায় না। অনেক সময় আমাদের শিক্ষকরা নিজেরাই রাস্তা পার করিয়ে দেন।” অভিভাবকরা বলছেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে তাদের বুক ধড়ফড় করে।

শুধু দুর্ঘটনা নয়, মহাসড়কের যানজটও জনজীবনে বিরাট প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন,“ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে মালামাল আনতে ২ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লাগে ৬ ঘণ্টা। এতে ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। এ সড়ক ফোর লেন হলে অর্থনীতিও গতি পাবে।”

বুধবার সকাল ১০টায় মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ ও দেবিদ্বার এলাকায় হাজারো মানুষ মহাসড়কে নেমে আসেন। তাদের হাতে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড। স্লোগান একটাই“কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দ্রুত ফোর লেনে উন্নীত করো।” অবরোধ চলাকালে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। তবে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন তারা।

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন,“ফোর লেন প্রকল্প অনুমোদিত আছে। তবে ফান্ড সংকটের কারণে দেরি হচ্ছে। ভারত যে ঋণ সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল, তা পাওয়া যায়নি। বিকল্প অর্থায়নের চেষ্টা চলছে।”

এলাকাবাসীর স্পষ্ট ঘোষণা অতি দ্রুত কাজ শুরু না হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে নামবেন।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..