শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন

দুই প্রার্থীতে বিভ্রান্ত বিএনপি ভোটার

মো:কামরান হোসেন, বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি :
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭৫২ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী নিয়ে বিভ্রান্ত দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর সোমবার বিএনপির এ দুই প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী ও ফয়ছল আহমদ চৌধুরীর নিজেদের চূড়ান্ত প্রার্থী দাবি এবং মনোনয়নপত্র টিকে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

তৃণমূল কর্মীরা জানান, বিষয়টি ঘিরে নানা বিতর্ক নতুন করে সামনে আসছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নেতাকর্মীরা। প্রার্থী নিয়ে বিএনপির তৃণমূল বিভ্রান্ত।

স্থানীয় বিএনপির একটি সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে কয়েক ঘণ্টা আগে গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে বিএনপির দলীয় প্রার্থিতার চিঠি হাতে পেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী ফয়ছল আহমদ চৌধুরী। তাঁর চিঠির ওপরের অংশের ডান পাশে সংযুক্তি-২ লেখা ছিল।

ফয়ছল চৌধুরীর ফেসবুক পোস্টটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। ফয়ছল চৌধুরীর অনুসারীরা জোরেশোরে সামাজিক মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি প্রচার করেন। অপরদিকে আগেই দলের মনোনয়ন পাওয়া সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীর অনুসারী ও বিএনপি-অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে পাল্টা প্রচারে ফয়ছল আহমদ চৌধুরীকে দলের বিকল্প প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, গত ৩ নভেম্বর থেকে এমরান আহমদ চৌধুরী ছাড়া সিলেট-৬ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী প্রচারে ছিলেন না। হঠাৎ ২৮ ডিসেম্বর রাত থেকে ফয়ছল আহমদ চৌধুরীর দলের চূড়ান্ত প্রার্থিতার যে দাবি উঠেছে, এর সঠিক কোনো প্রমাণ নেই। তাদের ধারণা, একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ফয়ছল আহমদ চৌধুরীকে দলের গ্রিপে রাখতে এবং তাঁকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে নিরুৎসাহিত করতে এ কৌশল নিয়েছেন দলের হাইকমান্ড।

বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দৌলা হোসেন সুভাষ বলেন, দলের চূড়ান্ত প্রার্থী একজনই। কিন্তু ফয়ছল আহমদ চৌধুরীকে শেষ মুহূর্তে সংযুক্তি-২ লিখে যে দলীয় চিঠি দেওয়া হয়েছে, এটি দলীয় কৌশল। তাদের ধারণা, কোনো কারণে মূল প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে তাঁকে রাখা হয়েছে। কিন্তু দুজনের প্রার্থিতাই বহাল। এখন দল কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।

৫ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্থগিত থাকা মনোনয়নপত্র ফিরে পেয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী দাবি করেন ফয়ছল আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রার্থী নির্ধারণী আইনের যেসব ধারা রয়েছে, সেখানে সংযুক্তি-২ চূড়ান্ত প্রার্থী। দল থেকেও সে রকম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ৩০০ আসনের মধ্যে যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থী দুর্বল সেখানে চূড়ান্ত প্রার্থী দেওয়া হয় জানিয়ে ফয়ছল চৌধুরী বলেন, এ আসনটি যাতে বিএনপির হাতছাড়া না হয় সে ক্ষেত্রে দল তাঁকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে।

একই দিন সিলেটে হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সারাদেশের ৭-৮টি আসনে বিকল্প প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রার্থী ব্যাংক ইস্যুতে সমস্যায় পড়তে পারেন। সে জন্য বিকল্প প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল।

সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতবিনিময় সভায় সিলেটের পাঁচ আসনে মনোনীত প্রার্থীরা ছিলেন। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এমরান চৌধুরীকে পরিচয় করিয়ে দেন।

এ বিষয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, দলের মহাসচিব সিলেটে সাংবাদিকদের পরিষ্কার ভাষায় যেখানে পরবর্তী সময়ে একাধিক প্রার্থী দেওয়া হয়েছে তারা বিকল্প প্রার্থী বলে জানিয়েছেন। কোনো কারণে মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলে বিকল্প প্রার্থীকে নিয়ে দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..