শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে চীন ভারতসহ বিভিন্ন দেশের অভিনন্দন শপথ নিলেন নতুন ৪ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোরেলগঞ্জে দুই বছরের শিশুকে সড়কে ফেলে পালালেন মা, মানবিকতায় পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও মোরেলগঞ্জে ৯৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম বারইখালী জামে মসজিদের বেহাল দশা মির্জাগঞ্জে শালীসি নামে সনাতন ধর্মাবলম্বীর জমি বিক্রি করে ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ-ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতাদের ঘিরে তোলপাড়! ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ১৭৩২ মামলা নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে দেশ-বিদেশের অভিনন্দন যেসব কারণে ৬ এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি

মির্জাগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে’ বিলের অভিযোগ: আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও হয়রানির শঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী):
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ৫৮২৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র চার মাসের ব্যবধানে ৪৪১ টাকার বিদ্যুৎ বিল বেড়ে ৯ হাজার ৩১১ টাকায় পৌঁছানো, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার লিখিত নির্দেশ বাস্তবায়ন না করা এবং বিল সংক্রান্ত অভিযোগ করায় গ্রাহককে হয়রানির অভিযোগ— এমন একাধিক ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মির্জাগঞ্জ জোনাল অফিসের কার্যক্রম নিয়ে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, মির্জাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন পাটোয়ারীর নামে থাকা ৮৬০-১৪৭০ নম্বর বিদ্যুৎ সংযোগে দীর্ঘদিন স্বাভাবিক বিল আসলেও ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে হঠাৎ করেই বিল অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। যেখানে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিল ছিল ৭০ ইউনিটের জন্য ৪৪১ টাকা, সেখানে পরবর্তী চার মাসে বিল ক্রমান্বয়ে বেড়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৮০০ ইউনিট এবং ৯ হাজার ৩১১ টাকায় পৌঁছে যায়।

গ্রাহকের ছেলে অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম পাটোয়ারীর অভিযোগ, অস্বাভাবিক বিলের বিষয়ে বারবার সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মিটারটি ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে খুলে নতুন মিটার স্থাপন করা হলেও পূর্বের বিল সমন্বয়ের পরিবর্তে গ্রাহককে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধে চাপ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আবুল কাশেমের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলে তিনি তদন্ত শেষে বিল সমন্বয়ের জন্য লিখিত নির্দেশ দেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জিএমের ওই নির্দেশ কার্যকর না করে মির্জাগঞ্জ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) পলক সাহা উল্টো চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বিল আদায় করেন এবং পরবর্তীতে নতুন মিটারে স্বল্প ইউনিট ব্যবহারের পরও অতিরিক্ত ইউনিট যোগ করে নতুন করে কয়েক হাজার টাকার বিল প্রস্তুত করেন।

বিষয়টির প্রতিকার না পেয়ে আলতাফ হোসেন পাটোয়ারী মির্জাগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণসহ সম্ভাব্য হয়রানি থেকে সুরক্ষা চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আদালত গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ প্রদান করেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, একই ধরনের অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগ শুধু আলতাফ হোসেন পাটোয়ারী পরিবারের নয়। মির্জাগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক গ্রাহক হঠাৎ কয়েকগুণ বেশি বিল পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। কয়েকজন গ্রাহকের বিলের কপি পর্যালোচনায়ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিল বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে এজিএম পলক সাহা এবং জিএম আবুল কাশেমের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে সংযুক্ত করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..